সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। আজ সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে পে-স্কেলের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উঠছে। অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সেই হিসাবে সর্বনিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার ১৪২ শতাংশ। প্রস্তাবে প্রথম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন স্কেল ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। সেই হিসাবে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। এছাড়া সব গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারের ভেতরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতিও রয়েছে। এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে। গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এরই মধ্যে সুপারিশ জমা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুই ধাপে এটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশনপ্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।
বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় নির্ধারিত এক লাখ ৬০ হাজার টাকা।
১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো এ বছরের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় যা ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।



