সাকিবুল হাসান
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ মাত্র দুই কোটি টাকা বাড়লেও সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে আরো ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে মূল বাজেটের ন্যূনতম ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের সংস্কৃতিকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। এতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের মাত্র ০.০৯ শতাংশ। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৪৮৫ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ৩৪১ কোটি টাকা। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮২৪ কোটি টাকা।
সংস্কৃতি খাতের এই নামমাত্র বরাদ্দে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সংস্কৃতি খাতে মূল বাজেটের অন্তত ১ শতাংশ দাবি আমাদের অনেক দিনের, যা এবারো পূরণ হয়নি।’ অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালামও সংস্কৃতি খাতকে বরাবরের মতোই অবহেলিত বলে মন্তব্য করেন। সৃজনশীল অর্থনীতির বরাদ্দ কীভাবে সংস্কৃতি খাতে ভূমিকা রাখবে, তা নিয়েও এই দুই তারকা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তবে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এছাড়া দেশের সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র শিল্পের মানোন্নয়নে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্রের রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক মানের ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তুলতে এবং জিডিপিতে এর অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করতে ১০ বছরের মহাপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এর আওতায় দেশজুড়ে আঞ্চলিক ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ স্থাপন করা হবে এবং পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। অবহেলিত সংস্কৃতি খাতের মাঝেও শুল্ক ছাড় ও ভ্যাটমুক্তির এই উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



