নয়া দিগন্ত ডেস্ক
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরো চারজন।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রোববার বেলা ১১টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনজন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত-আহতদের কারো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও অপর একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- পৌরসভার বৈদ্দেরখীল গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে মোটরসাইকেলচালক আবদুর রহমান (২২) ও পৌর এলাকা চাটিতলার বাসিন্দা আবুল হাশেম (৭০)।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা গোবিন্দ মানিক্য দিঘির দক্ষিণ পাড় এলাকায় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি ট্রলিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলচালক আবদুর রহমান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ দুর্ঘটনায় আহত ট্রলিচালক বসন্তপুর গ্রামের আবদুস সোবহান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে সকালে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা বিদ্যালয়সংলগ্ন চট্টগ্রামমুখী লেন পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় পথচারী বৃদ্ধ আবুল হাশেম নিহত হন। তিনি ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামে বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার চাটিতলা গ্রামে ভাড়াবাসায় বসবাস করছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: আল রায়হান পাটোয়ারী জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়।
চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের চকরিয়ায় বেপরোয়া গতির এসি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মরিয়ম খাতুন (৬৫) নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরো এক মহিলা আহত হয়েছেন। রোববার বানিয়ার চড়া স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মরিয়ম খাতুন চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘনসাম বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া বানিয়া চড়া স্টেশনে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী একটি এসি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে মরিয়ম খাতুনকে চাপা দেয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত ইসপা বেগম (৭) আশঙ্কা জনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দেবজিত দুলাল মৃদুল (২২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার কুলাউড়া স্কুল চৌমুহনী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেবজিত দুলাল মৃদুল কুলাউড়া পৌর এলাকার দিপন দেবের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে স্কুল চৌমুহনী এলাকায় পথচারী মহিলাকে বাঁচাতে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ড্রেনের সাথে সাজোরে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন মৃদুল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে বেলা ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।



