মক্কা যৌথ সামরিক চুক্তি একটা নতুন সুযোগ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মক্কা যৌথ সামরিক চুক্তিকে ‘ইউনিক প্যাক্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, এটা একটা নতুন সুযোগ। আজকের অস্থিতিশীল পৃথিবীতে আমরা দেখি, এক জোটে থাকলে আরেক জোটে যাওয়া যাবে না বা অন্য জায়গায় গিয়ে আপনি অবদান রাখতে পারবেন না, বিষয়বস্তুর বাইরে যেতে পারবেন না। তাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাকে খুব সমন্বিত উপায়ে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো একটি দেশকে নমনীয় সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে। সেটার ভিত্তিতে আমরা সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখব এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে থাকব।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন। মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ে আমাদের লম্বা আলোচনা হয়েছে। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখি। তবে আমাদের এখনো তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি।

হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসঙ্ঘ কাঠামোর অধীনে বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের একটা বড় অবদান আছে। শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। আমরা বিশ্বজুড়ে এটি করছি এবং এ জন্য স্বীকৃতিও পাচ্ছি। তাহলে আমরা কেন আমাদের মুসলিম ভাইদের জন্য কিছু করতে পারব না?

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সাথে, বিশেষ করে সৌদি আরবের সাথে আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব মুসলমানদের জন্য পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষক। তাই মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিছু করতে চাওয়া খারাপ জিনিস নয়। এ কারণে মক্কা চুক্তিকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখি।

চীনের সাথে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি : চীনের সাথে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ২+২ এই সংলাপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে আলোচনা হয়েছিল। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাথে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাতে এ সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রফতানি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শুরু করার উপায় নিয়ে আলাপ করেন।

রাষ্ট্রদূত ওয়েন চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (আইডিসিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের পরিকল্পিত বাংলাদেশ সফরসহ আসন্ন উচ্চ পর্যায়ের বিনিময় ও সফর সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি আগামী অক্টোবরে চীন সফরের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল চীন সফরের পরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন গতি এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সাথে চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ এ উন্নীত করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের ফলাফল সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন, যার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতা। তিনি বলেন, সিইআইজেড প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি ৩০টি চীনা কোম্পানিকে আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাংলাদেশীদের জন্য এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। এতে উভয় পক্ষ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো উন্নত করতে বর্তমান গতি বজায় রাখা এবং দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক উচ্চ-পর্যায়ের সফর বিনিময় ও নিয়মিত যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।