সেমিফাইনালে হেরে এইচপির বিদায়

বোলিংয়ে সেরা রুবেল ব্যাটিংয়ে তৃতীয় আরিফুল

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

লিগ পর্বে ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে টপ অ্যান্ড টি-২০ টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবেই সেমিফাইনালে নেমেছিল বাংলাদেশ এইচপি ইউনিট। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৭.১ ওভারে মাত্র ১০১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াই করেও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। ১৯.৪ ওভারে ৯ উইকেটে ১০৫ রান করে ভিক্টোরিয়া। শেষ ওভারে নাটকীয়তায় ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কাছে ১ উইকেট হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অ্যাডেলেইড স্ট্রাইকার্স অ্যাকাডেমি ৫ উইকেটে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। দুপুরে ফাইনালে অ্যাডেলেইড (১৭৭/৫) ২৫ রানে ভিক্টোরিয়াকে (১৫২/৮) হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।

টুর্নামেন্ট সেরা বোলার এইচপির মো: রুবেল। সাত ম্যাচে ২০ ওভার বল করে ১৬৩ রান খরচায় নিয়েছেন ২৩ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ২১ রানে ৫ উইকেট। পুরো টুর্নামেন্টে কোন বোলার ৫ উইকেট নিতে পারেননি। উইকেটপ্রাপ্তি সংখ্যায় রুবেলের কাছে ধারে কেউ নেই।

দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা যথাক্রমে জয়দেন লেনক্স, লালচান ব্যাঙ্গস ও স্যাম ইলিয়ট সমান ১৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। পঞ্চমে থাকা ম্যাথিউ ফিশারের উইকেট ১১টি। ৩০২ রান করে সেরা ব্যাটার কুশল ভুর্টেল। ২৬২ রান করে ক্যারল দ্বিতীয়, ২১৯ রান করে এইচপির আরিফুল ইসলাম তৃতীয়, ওয়াদিয়া চতুর্থ (২১৫) এবং জর্ডান সিল্ক পঞ্চম (২০১)। টোটাল দলীয় রানে বাংলাদেশ তৃতীয়। অ্যাডিলেইড ১২৫০, ভিক্টোরিয়া ১১৩৩ এবং এইচপি ৯৬১ রান।

১০২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ভিক্টোরিয়াকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল বাংলাদেশের বোলাররা। একপর্যায়ে ৪ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে সহজ জয়ের পথেই ছিল ভিক্টোরিয়া। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। পরের ২৪ রানের মধ্যে আরো চার ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন বোলাররা।

শেষ ওভারে ভিক্টোরিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান, আর বাংলাদেশকে ম্যাচ জিততে হলে নিতে হতো দু’টি উইকেট। প্রথম বলেই রান আউট হয়ে ফেরেন টড মার্ফি। পরের দুই বলে কোনো রান নিতে না পারায় সুপার ওভারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তবে সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেন লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড। ওভারের চতুর্থ বল কাট করে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে চার মারেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তাতেই দুই বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভিক্টোরিয়া। এই হারে শেষ চারেই থামে বাংলাদেশের যাত্রা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। হাবিবুর রহমান সোহান দ্রুত ফিরলেও জিসান আলম ও আরিফুল ইসলাম ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। তাদের সুবাদে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৫৬ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে পাওয়ার প্লের পরই বদলে যায় চিত্র। সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই ফেরেন ২০ বলে ৩০ রান করা জিসান। তার ইনিংসে ছিল ৩ চার ও একটি ছক্কা। এর আগে ১০ বলে ১৯ রান করে আউট হন আরিফুল, যিনি মারেন ৩টি চার ও ১টি ছক্কা।

এরপর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। ৮ বলে ৫ রান করেন সাব্বির রহমান। শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ১০ এবং আবু হায়দার রনির ১২ রানে টেনেটুনে তিন অঙ্ক ছোঁয় বাংলাদেশ। ভিক্টোরিয়ার হয়ে ৪ উইকেট নেন উইল সাদারল্যান্ড।

ছোট পুঁজি নিয়েও বল হাতে লড়াই চালিয়ে যান বাংলাদেশের বোলাররা। সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ রুবেল। রহস্য স্পিনারের চমৎকার বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন তিনি। ২৩ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে শেষ করেন তিনি। ১৮ রানে ২ উইকেট নেন শামীম হোসেন। ১৬ রানে আবু হায়দার রনির শিকার এক উইকেট। বোলারদের শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও ব্যাটিং ব্যর্থতার মূল্য দিতে হলো বাংলাদেশকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ এইচপি : ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (সোহান ৩, জিসান ৩০, আরিফুল ১৯ সাব্বির ৫, ইরফান ০, শামীম ৮, রকিবুল ০, সাকলাইন ১০, আবু হায়দার ১২, রিপন ৬, রুবেল ৪*; হোকস্ট্রা ২/১৪, এলিয়ট ২/১৪, সাদারল্যান্ড ৪/১৭, মার্ফি ২/১৪)।

ভিক্টোরিয়া অ্যাকাডেমি : ১৯.৫ ওভারে ১০৫/৯ (রজার্স ১৮, কেলাওয়ে ২৩, ম্যাকডোনাল্ড ১৫, সাদারল্যান্ড ১৬, ব্ল্যাকফোর্ড ১৯*, রুবেল ৩/১৫, আবু হায়দার ১/৩০, রিপন ১/১৬, শামীম ২/১৮, রকিবুল ১/২৪)।

ফল : ভিক্টোরিয়া ১ উইকেটে জয়ী।