শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ছায়া বাজেট পেশ করবে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে ওইদিন বেলা দুইটায় মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে দলটি। যেখানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান দলটির বাজেট ভাবনা তুলে ধরবেন।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার। জামায়াত জোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে গত ৫ জুন ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট পেশ করেছে। জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও অনেক আগে থেকেই একটি ছায়া বাজেট পেশের ঘোষণা দেয়। সে লক্ষ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনের নেতৃত্বে দলটির একটি বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করে। যারা ইতোমধ্যে একটি ছায়া বাজেট তৈরি করেছে।
এ লক্ষ্যে গত ২৪ মে রাজধানীর পল্টনের ইকোনোমিকস রিপোর্টার্স ফোরামের অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে দলটি। সেখানে জামায়াতের বাজেট ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন দলটির নেতারা। একই দিনে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় বাজেট নিয়ে আলেমদের ভাবনা শীর্ষক আরেকটি প্রাক-বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া দলটির ৭৭ জন সংসদ সদস্যকে গত শুক্র ও শনিবার দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বাজেট নিয়ে। দলটির সূত্রে জানা যায়, ছায়া বাজেট তৈরি নিয়ে এখন শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামীকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে তাদের বাজেট ভাবনা পেশ করবে দলটি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, বাজেট নিয়ে এখনো কাজ চলছে। এজন্য বাজেটের আকার এখনই বলা যাচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, যেটি আসলে প্রয়োজন সে রকম আকারই ঘোষণা করা হবে জামায়াতের বাজেটে। বাস্তবায়ন যোগ্য বাজেট পেশ করবে জামায়াত জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বাজেট হবে জনবান্ধব বাজেট। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বাজেট বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে মানুষের জীবনমান সহজ করা ও সহনীয় পর্যায়ে আনার বিষয়টিকে বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য ব্যাংকিং সেক্টর স্থিতিশীল করতে করণীয় তুলে ধরা হয়েছে ছায়া বাজেটে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাজেট চায়, যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকবে। ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে অর্থনীতির চাকা সচল করতে হবে। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে গবেষণা করে একটি ছায়া বাজেট তৈরি করা হয়েছে। যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কালো টাকা সাদা করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে করের আওতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, তেলা মাথায় তেল দেয়া বাজেট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাজেট হতে হবে সর্বজনীন।



