জ্বালানি সঙ্কটে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত

সরকারি তথ্যের সাথে মিলছে না মাঠের চিত্র, ঝুঁকিতে রফতানি ও কর্মসংস্থান

অব্যাহতভাবে কমছে গ্যাসের চাপ। একই সাথে বিদ্যুতে চলছে লোডশেডিংয়ের চাপ। বিকল্প জ্বালানি কিনে কারখানা চালাতে গিয়ে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। কোথাও উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে এক-চতুর্থাংশের বেশি, কোথাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি পণ্য তৈরি করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, সিরামিক, টায়ার ও অন্যান্য জ্বালানি-নির্ভর শিল্পে এই সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। অথচ সরকারি সামগ্রিক শিল্পোৎপাদন সূচকে সঙ্কটের মাত্রা মাঠের চিত্রের তুলনায় অনেকটাই কম দৃশ্যমান।

শাহ আলম নূর
Printed Edition

অব্যাহতভাবে কমছে গ্যাসের চাপ। একই সাথে বিদ্যুতে চলছে লোডশেডিংয়ের চাপ। বিকল্প জ্বালানি কিনে কারখানা চালাতে গিয়ে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। কোথাও উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে এক-চতুর্থাংশের বেশি, কোথাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি পণ্য তৈরি করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, সিরামিক, টায়ার ও অন্যান্য জ্বালানি-নির্ভর শিল্পে এই সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। অথচ সরকারি সামগ্রিক শিল্পোৎপাদন সূচকে সঙ্কটের মাত্রা মাঠের চিত্রের তুলনায় অনেকটাই কম দৃশ্যমান।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সঙ্কট এখন আর কেবল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সমস্যা নয়; এর সাথে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রফতানি আদেশ হারানোর আশঙ্কা, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কর্মসংস্থান সঙ্কুুচিত হওয়ার ঝুঁকি। বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্যে দেখা যায়, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দেশের পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠকে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ তথ্য জানান। বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের সময়সূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত শিল্পোৎপাদনের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৃহৎ, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প সব ধরনের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উৎপাদন সূচক আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। বড় শিল্পের উৎপাদন সূচক কমেছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তবে জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বৃহৎ শিল্পের গড় উৎপাদন সূচক আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি-নির্ভর পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং ও ওয়াশিংয়ের মতো শিল্পে সঙ্কটের তীব্রতা অনেক বেশি। ফলে জাতীয় পর্যায়ের গড় সূচকে যে ক্ষতি সীমিত মনে হচ্ছে, কারখানার উৎপাদন লাইনে তার প্রভাব অনেক বেশি। তারা বলছেন, জুলাইয়ের শুরুতে গ্যাস সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। ২১ জুলাই মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, যা জাতীয় সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহের ওপর চাপ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে শিল্পকারখানার মালিকদের অনেকে গ্যাসের নিম্নচাপকে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, তাদের কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ ৮ পিএসআই হলেও কোনো কোনো সময়ে ২ থেকে ৩ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ধীর হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু পোশাক কারখানাই নয়, টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলোর জন্য গ্যাসের চাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে তিনি একটি স্পিনিং মিলের মালিকের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। কারখানাটির অনুমোদিত গ্যাসের চাপ ১০ পিএসআই হলেও দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে মাত্র ১ দশমিক ৫ পিএসআই গ্যাস পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক কারখানা নামমাত্র গ্যাস সংযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় বয়লার, ডাইং, ফিনিশিং ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এদিকে বিটিএমএ এর তথ্যে দেখা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ২৩৪টি টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে হয়েছে।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, কারখানা চালু থাকলেও উৎপাদন কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ কারখানা বন্ধ না হওয়ায় সরকারি হিসাবে সেটি ‘উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবেই থাকছে; কিন্তু বাস্তবে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করছে। কোনো কোনো কারখানা দিনের কয়েক ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রাখছে, আবার কেউ রাতের দিকে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করছে। তারা বলছেন, এর সাথে যোগ হয়েছে বিকল্প জ্বালানির বাড়তি খরচ। গ্যাস না থাকলে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ খাতের বেশ কিছু শিল্প উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, জেনারেটর চালাতে বাজারদরের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে একটি রফতানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। কারণ বিদেশী ক্রেতা সাধারণত একই পণ্যের জন্য বাড়তি মূল্য দিতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও যদি ক্রেতার দেয়া মূল্য অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে লাভের মার্জিন কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এতে নতুন অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

গ্যাস ও জ্বালানি সঙ্কটের প্রতিফলন রফতানিতে দেখা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। মোট পণ্য রফতানি ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং মোট রফতানি আয়ের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে পোশাক খাত থেকে।

নতুন অর্থবছরের শুরুতেও স্বস্তির খবর নেই। জুলাইয়ে দেশের মোট পণ্য রফতানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। মূলত পোশাক রফতানি কমে যাওয়াই এ পতনের প্রধান কারণ বলে সংশ্লিষ্ট মনে করছেন। এক মাসে পোশাক রফতানি প্রায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু নয়া দিগন্তকে বলেন, রফতানি কমার পুরো দায় জ্বালানি সঙ্কটের ওপর দেয়া যাবে না। বৈশ্বিক চাহিদা, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম কমে যাওয়া, ক্রেতাদের অর্ডার কমানো, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের সঙ্কট এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও পোশাক খাতের ওপর চাপ তৈরি করছে। বিজিএমইএও চলতি বছর শিল্পটির সঙ্কটের কারণ হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যার কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সঙ্কট এসব সমস্যাকে আরো গভীর করছে। একটি কারখানার হাতে অর্ডার থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে ক্রেতার আস্থা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্ডারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ দিকে শ্রমিক নেতারা বলছেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন কর্মসংস্থান নিয়ে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই বিভিন্ন কারখানায় ছাঁটাই ও চাকরি হারানোর ঘটনা ব্যাপক হয়েছে। শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বা চাকরি হারিয়েছেন; তাদের বড় অংশ পোশাক খাতের। এর মধ্যে শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর সাতটি পোশাক কারখানা থেকে এক হাজার ৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যবসায়িক মন্দাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শ্রমিকদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তারা বলছেন, জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব এখন তিন স্তরে কাজ করছে। প্রথমত, সরাসরি উৎপাদন কমছে। দ্বিতীয়ত, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। তৃতীয়ত, উৎপাদন ও রফতানি আদেশ কমে গেলে কারখানার আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে কর্মসংস্থান সঙ্কুুচিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ দিকে সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতির খবর এসেছে। ৬ আগস্ট এলএনজি টার্মিনালের একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিকভাবে চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হয়েছে। তবে বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা আনুমানিক তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সাধারণত প্রায় দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি থাকে। ফলে একটি টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়া সঙ্কট কমাতে পারে, কিন্তু কাঠামোগত ঘাটতি পুরোপুরি দূর করে না।

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নয়া দিগন্তকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে শিল্পভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা। কোন শিল্পে কত ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, অনুমোদিত চাপের বিপরীতে বাস্তবে কত চাপ পাওয়া যাচ্ছে, কত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, কতটি কারখানা সক্ষমতার নিচে উৎপাদন করছে এবং এর ফলে মাসে কত টাকার উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিল্পোৎপাদন সূচক দিয়ে একটি কারখানার বাস্তব দুরবস্থা সবসময় বোঝা যায় না। একটি কারখানা বন্ধ না হয়ে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চললে সরকারি হিসেবে সেটি উৎপাদন চালু রেখেছে। কিন্তু মালিকের কাছে সেটি ৩০ শতাংশ সক্ষমতা হারানোর সমান। আবার কোনো কারখানা জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন ধরে রাখলেও তার অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় জাতীয় উৎপাদন সূচকে ধরা পড়ে না। বর্তমান সংকটের প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণে শুধু ‘কারখানা বন্ধ হয়েছে কি না’ এই প্রশ্ন যথেষ্ট নয়। দেখতে হবে কারখানাগুলো তাদের মোট সক্ষমতার কত শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক ও টেক্সটাইল খাত শুধু বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস নয়, বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সাথেও সরাসরি যুক্ত। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বর্তমান প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রথমে কমবে সক্ষমতার ব্যবহার, এরপর বাড়বে উৎপাদন ব্যয়, তারপর রফতানি আদেশ হারানোর ঝুঁকি এবং শেষ পর্যন্ত পড়তে পারে কর্মসংস্থানের ওপর চাপ।

তারা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানে সঙ্কটের পূর্ণ চিত্র এখনো দৃশ্যমান না হলেও মাঠের তথ্য বলছে, শিল্প খাতের জন্য জ্বালানি সঙ্কট ইতোমধ্যেই উৎপাদন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্কটে রূপ নিয়েছে। সাময়িকভাবে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে রফতানি আয়, শিল্প বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান তিনটিই একই সাথে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।