ক্রীড়া ডেস্ক
দীর্ঘ প্রায় চার বছর তিন মাস বা ১৫৪৭ দিন পর চার গোল করলেন লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মিয়ামির হয়ে সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে চার গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয়ে একটি অ্যাসিস্টও রয়েছে রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকার। সবশেষ ২০২২ সালের ৫ জুন আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ৫ গোল করেছিলেন ফুটবলের এই খুদে জাদুকর। তবে ক্লাব ফুটবলে মেসি সবশেষ ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চার গোল করেছিলেন স্প্যানিশ লা-লিগায় এইবারের বিপক্ষে বার্সেলোনার জার্সিতে। এ নিয়ে ৯ বার চার বা তার অধিক গোল করলেন মেসি।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে সব মিলে ১,১৭১টি পেশাদার ম্যাচ খেলেছেন মেসি। আর তাতে মোট গোলসংখ্যা ৯২৭টি। এই মহাকাব্যের অধ্যায়ে ৫৬০ ম্যাচেই জালের দেখা পাননি আলবিসেলেস্তেদের এই সুপারস্টার। ৩৬৬ ম্যাচে করেছেন একটি করে গোল। ১৮৩ ম্যাচে জোড়া। আর ৫৩টি রয়েছে হ্যাটট্রিক। সব মিলে এই পথচলায় হ্যাটট্রিকের সংখ্যা ৬২টি। এর মধ্যে সাতবার করেছেন চারটি করে গোল, দুইবার ৫টি। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে সর্বোচ্চ ৪৮টি হ্যাটট্রিক, আর্জেন্টিনার হয়ে ১১টি আর গতকালের হ্যাটট্রিক নিয়ে তিনটি হলো ইন্টার মিয়ামিতে।
৩৯ বছর বয়সে অনায়াসে এক ম্যাচে চার গোল করলেন মেসি। ফ্রি কিক থেকে দু’টি গোলের পর বাকি দু’টির একটি ছিল জাদুকরি নৈপুণ্যে। চার গোল করার পাশাপাশি সহায়তাও করেন আরেকটি গোলে। এ নিয়ে চলতি আসরে ১৮ বার জাল স্পর্শ করে তালিকায় সবার ওপরেও উঠে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মিয়ামির অন্য তিন গোল করেন ক্যাসেমিরো, লুইস সুয়ারেজ ও আলেক্সান্ডার শো।
ঘরের মাঠ ন্যূ স্টেডিয়ামে গতকাল ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ গুইলার্মো হোয়োসকে ছাড়াই ম্যাচটি খেলেছে মিয়ামি। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে একাধিকবার লিগের ‘লেট কিকঅফ পলিসি’ লঙ্ঘনের দায়ে তাকে এই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ঘরের মাঠে ধীরগতিতে শুরুর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মিয়ামি। ম্যাচ শুরুর ২০ মিনিটে ক্যাসেমিরোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মিয়ামির জার্সিতে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের প্রথম গোল এটি। ৩৭ মিনিটে ফাবিয়ান হার্বাসের গোলে সমতায় ফিরে ম্যাচ জমিয়ে তুলে মন্ট্রিয়েল। কিন্তু কে জানতে, এরপরই বড় ঝড় অপেক্ষা করছে সফরকারীদের।
ম্যাচের ৪০ মিনিটে প্রথম জালের দেখা পান মেসি। আবার ২-১-এ এগিয়ে মিয়ামির। মেসির ফ্রি কিকে প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে গোলরক্ষকের হাতে লেগে বল আশ্রয় নেয় জালে। আর্জেন্টাইন জাদুকরের দ্বিতীয় গোলটি আসে ৫২ মিনিটে। ঐন্দ্রজালিক এক গোল সেটি।
বক্সের একটু বাইরে বল পেয়ে একজনকে কাটিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়ে পাস বাড়ান। কিন্তু মন্ট্রিয়েলের একজনের পায়ে লেগে বল ফিরে আসে তার কাছেই। তিনি বল ধরে প্রতিপক্ষের দু’জনকে কাটিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হারাতেও আবার সামলে নেন। এরপর আরো একজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে বলকে পাঠান কাক্সিক্ষত ঠিকানায়। ৮০ মিনিটে প্রতিআক্রমণে মাঝমাঠ থেকে চমৎকার এক লব করেন মেসি। অফসাইড ফাঁদ এগিয়ে বল ধরে এগিয়ে পায়ের সামনের অংশ দিয়ে শট নিয়ে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান সুয়ারেজ।
৩ মিনিট পর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসির। থ্রু বল ধরে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে মাপা চিপ শটে লক্ষ্য ভেদ করেন। মিয়ামির ষষ্ঠ গোলদাতা আলেকজান্ডার শো। ৮৯ মিনিটে বক্সের বাইরে তার নেয়া শট মন্ট্রিয়েলের রক্ষণ দেয়ালের ফাঁক গলে জালে প্রবেশ করে। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বক্সের একটু বাইরে মাঝবরাবর ফ্রি কিক পায় মিয়ামি। মেসির বাঁ পায়ে নেয়া শটে ডাইভ দিয়ে নাগাল পাননি গোলরক্ষক। তাতে গত ২৫ জুলাইয়ের পর বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মিয়ামি। আর সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলে পাঁচ ম্যাচ পর জয় মেসি-সুয়ারেজদের।
এই জয়ে ২২ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে ইন্টার মিয়ামি। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।



