বাংলাদেশ ২.০-এর সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

মানবিক করিডোর ও আসিয়ানের সাথে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশকে কৌশলী অবস্থান নিতে হবে

Printed Edition
রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি এনালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা : নয়া দিগন্ত
রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি এনালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে কৌশলী অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ভবিষ্যতসহ সব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। একই সাথে জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবিত রাখাইনে মানবিক করিডোর নিয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপের এ টি এম শামসুল হক মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ২.০ : রিইমেজিনিং পার্টনারশিপ উইথ সাউথ অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন বক্তারা। সেন্টার ফর পলিসি এনালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (সিপিএএ) গোলটেবিল আলোচনাটির আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সেন্টারের সভাপতি ড. এম শরিফুল আলম।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শাহীদুজ্জামান। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম হক, নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাসান নাসির, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, সোয়াবের সভাপতি এস এম রাশেদুজ্জামান, তরুণ সমাজ চিন্তক আলী আহসান জুনায়েদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশিষ্ট ক্লাইমেট-চেঞ্জ বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমদ বক্তব্য রাখেন।

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা সামনের দিনে এই দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত সেসব নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আসতে পারে এবং সেগুলো থেকে উত্তরণের উপায় নিয়েও কথা বলেন তারা। এ ছাড়াও তারা এই দুই অঞ্চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিকসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য ধরে রাখতে সামনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সদস্যপদ লাভের জন্য বাংলাদেশের অব্যাহত চেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আসিয়ানের সদস্য হতে যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা এলে তা থেকে উত্তরণের উপায়, সার্কের অকার্যকারিতার দরুন ভারত ছাড়া অন্য দেশগুলোকে নিয়ে নতুন সংগঠনের চিন্তা করাসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করেন বক্তারা।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম শাহীদুজ্জামান আমেরিকার সাহায্য নিয়ে আরাকান রাজ্যকে স্বাধীন করার ব্যাপারে বাংলাদেশের সামরিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। মিয়ানমারের জন্যে করিডোর সৃষ্টি করা, সরবরাহ পৌঁছে দেয়া, এগুলো নতুন প্রস্তাবে মুখ্য ধারণা নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, সেখানে সিভিল সোসাইটি বা জনগণের মতামতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সামরিক প্রক্রিয়ায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিছু দিন আগে আমেরিকার প্যাসিফিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার ঢাকায় এসেছিলেন, দুই দিন সেনাবাহিনী প্রধানের সাথে আলোচনা করে গেছেন। আমার মনে হয়, এটি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সম্মতি ছিল। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক সাপোর্ট। আমেরিকা যদি বাংলাদেশকে পুরোপুরি সহায়তা দেয়, তা হলে আমাদের সামরিক উপস্থিতি সেখানে গিয়ে কোনো হুমকি থাকলেও সেটা মোকাবেলা করার মতো পরিস্থিতি থাকবে।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ভূরাজনীতিবিদ প্রফেসর দিলারা চৌধুরী আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন যে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে ইন্দো-সেন্টিক পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্বরোপ করেছিল। এর ফলে আমরা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি। তাই এ প্যারাডাইম থেকে বের হয়ে আমাদের নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের একটা বৃহৎ অংশ সবসময় আমাদেরকে একটা বিশেষ সম্পর্কে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে কথা বলেছি তারা বিভিন্নভাবে হেনস্তা হয়েছি। আমাদের অ্যাকাডেমিক কমিউনিটি ও সিভিল সোসাইটি নতজানু নীতির প্রতি আমাদেরকে প্রভাবিত করেছে। অন্য দেশকে দোষ দেয়ার সাথে সাথে দেশের ডিপ স্টেট নিয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে। গত তিনটি নির্বাচন ডিপ স্টেট, আমলাতন্ত্র ও রাজনীতিবিদরা নষ্ট করেছে। তাই অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমি মনে করি লুক ইস্ট পলিসি নতুন করে ভাবতে হবে। বিগত সময়ে আমরা এ বিষয়ে অতীতে মনোযোগ দেইনি। বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে এটি গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে আমাদেরকে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজতে হবে। আসিয়ান দেশগুলো এ ক্ষেত্রে বড় সুযোগ হবে। বৈশ্বিক পর্যায়ে একটা বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নিরাপত্তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সম্পর্ককে বিস্তৃত করতে হবে।

ডিফেন্স নেক্সাস জাস্টিসের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ হাসান নাসির, এনডিসি, পিএসসি বলেন যে, বিবিআইএন মূলত ভারতকে করিডোর দেয়ার জন্য করা হয়েছিল। সার্ককে কার্যকর করার জন্য চীনকে সংযুক্ত করতে হবে। জাপানের বিগ-বি পরিকল্পনায় চীনকে উপেক্ষা করা হয়েছে। আসিয়ানের সাথে আরো বেশি কার্যকর সম্পর্ক করা দরকার। তিনি বলেন যে করিডোর বিষয়ে আমরা যদি ভালোভাবে সিদ্ধান্ত না নেই তাহলে আমরা খুব বিপদে পড়ব। যারা করিডোর নিয়ে কাজ করছে তারা অনেকে বাংলাদেশের নাগরিকও নয়। তাই জাতিসঙ্ঘ ও চীনের সহায়তা ছাড়া এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। রাজনৈতিক অনুঘটকদেরকে এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিগত সময়ে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব নষ্ট করা হয়েছে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয়ে আমরা যদি ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত না নেই, তাহলে এগুলো আমাদের জন্য বিপর্যয়কর হবে। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় পাকিস্তান ও চীনের সাথে আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আবদুল লতিফ মাসুম বলেন যে, আমাদের জাতীয় স্বার্থ সবসময় চিরন্তন। ফলে এ আলোকে আমাদের বন্ধু ও নীতিনির্ধারণ করতে হবে। আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। ভবিষ্যতের সরকার যাতে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করে সে জন্য জাতীয় চাহিদা তৈরি করতে হবে।

রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙে গেলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়াবে উল্লেখ করে মাসুমুর রহমান খলিলী বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বার্মা এক্ট এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বার্মা এক্টে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। এটার কারণ বলা হয়েছে, মিয়ানমারের গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা। এটা দুইভাবে হতে পারে। আরাকান বা কোনো অঞ্চলকে স্বাধীন করে অথবা পুরো মিয়ানমারেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। এই জায়গায় চীনের সাথে আমেরিকার বোঝাপড়া না হলে বিষয়টি সফল হয়ে উঠবে না। এর দু’টি কারণ আছে, মিয়ানমারের পৃষ্ঠপোষক সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরাধিকারী রাশিয়া এবং চায়না দুটোই নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য। এখনো পর্যন্ত বৈশ্বিক সামরিক তৎপরতায় তাদের যথেষ্ট সক্রিয়তা আছে। তারা এই অঞ্চলে নিজেদের ভূমিকাকে পুনরুজ্জীবিত করলে আধিপত্য বিস্তার অসম্ভব কিছু হবে না। সে ক্ষেত্রে সবথেকে সহজ হবে মিয়ানমারে সু চির আমলে যেরকম গণতন্ত্র ছিল, সেরকম না হলেও একটা ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে অধিকতর আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে গষতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। এটি মিয়ানমার এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য অনেক বেশি কল্যাণকর হবে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেকগুলো রাষ্ট্রের মধ্যে অনেকধরনের প্রক্সি সংঘর্ষ, ভাগ-বিভাজন ছিল। বিশেষ করে সিরিয়া, লিবিয়া, সুদানে এখনো সঙ্ঘাত চলছে। তারা কিন্তু রাষ্ট্রকাঠামোকে কখনো ভাঙতে দেয়নি। একবার যদি রাষ্ট্রের কাঠামো ভাঙে, মানচিত্র ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয় এটার প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা হয়তো এখন মনে করব আরাকান, অথবা অন্য কোনো রাজ্য স্বাধীন হয়ে গেছে; কিন্তু এটার প্রভাব অবশ্যই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের ওপর পড়বে। সুতরাং আরাকানের স্বাধীনতার চেয়ে বরং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের মানবিক মর্যাদা, মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

সামনের দিনে ভারতের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম হক বলেন, কেন বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করছে, তার জন্য ভারত বাংলাদেশের ওপর তুমুলভাবে বিক্ষুব্ধ। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নীতিটা মূলত আরএসএস নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি এটা ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরও নিয়ন্ত্রণ করে না। আরএসএস যেভাবে চায় সেভাবেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কটা হয়ে থাকে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন আছে, সামনের মাসে বিহারে নির্বাচন আছে। আরএসএস মনে করে, যত বাংলাদেশবিরোধী, মুসলিমবিরোধী ন্যারেটিভ তারা তৈরি করতে পারবে, ততই তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তারা লাভবান হবে। সে জন্য ভারতের বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান সামনে আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের পরিস্থিতি থেকে আমরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে পারছি। ভারত পানি এবং নদী নিয়ে বড় ধরনের দ্বন্দ্বে জড়াবে। সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে ইতোমধ্যে ভারত যা করেছে সেটি সম্ভবত বাংলাদেশের সাথেও তারা করতে পারবে গঙ্গা নদীর পানিচুক্তি নিয়ে। যেটা ২০২৬ সালে শেষ হবে এবং সম্ভবত তারা এটি আর নবায়ন করবে না। পানি এবং নদী দিয়ে বাংলাদেশকে তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের এই নতুন রসায়নে বাংলাদেশ কিভাবে ক্ষতি এড়াবে সেটি নির্ভর করবে সামনের দিনে দু’টি বিষয়ের ওপর। একটি হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক, আরেকটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক। আমরা কত স্মার্টলি এই দুটো সম্পর্ককে ব্যবহার করতে পারছি আমাদের জাতীয় স্বার্থে সেটির ওপরেই আসলে সবকিছু নির্ভর করছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী বলেন যে, এ ধরনের আলোচনায় তরুণদেরকে বেশি সংযুক্ত করতে হবে। তরুণরা এখন নতুন করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছে। বাংলাদেশকে বুঝতে হলে বাংলাদেশ-ভারতের মানচিত্র একসাথে বুঝতে হবে। নেপাল-ভুটানকে সংযুক্ত করার ভিশন থাকতে হবে। চীনের সাথে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথাগত শিক্ষাবিদরা ভূ-রাজনীতিতে আমাদেরকে দাস বানানোর চেষ্টা করেছে। আমাদেরকে হীনম্মন্য করেছে। এ ধারার পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। ভূ-রাজনীতিতে আমাদের শক্তিশালী উপাদানগুলো উল্লেখ করতে হবে, যাতে করে আমরা হীনম্মন্য না থাকি। আমাদেরকে সাগরের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার সাথে সংযুক্ত করতে হবে। মিয়ানমারকে করিডোর দিতে হলে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে তা করতে হবে।

সাওয়াব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুজ্জমান বলেন যে, জুলাই বিপ্লবের আশা-আকাক্সক্ষাকে আমাদেরকে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা হতাশার সাথে দেখছি যে, এ বিপ্লবের আকাক্সক্ষা ক্রমেই ম্রিয়মাণ হচ্ছে। বিপ্লবের আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা করে আমরা নতুন বাংলাদেশ করতে পারব না। তিনি আরো বলেন যে, পুরনো খেলোয়াড়রা এখনো ক্রিয়াশীল। ভারতের রাজনীতিবিদরা কখনোই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের নীতি স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি। তাই আমাদের কৌশলগত বিষয়ে আরো বেশি চিন্তা করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা বোরহান উদ্দিন বলেন যে, আমাদের আলোচনা ভূ-রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে হচ্ছে; কিন্তু আমরা তরুণরা ভিন্নভাবে দেখতে চাই। বাংলাদেশে বিপুল তরুণ আছে। যারা আসিয়ানের বিভিন্ন দেশে যেতে পারে। এটা আমাদের জন্য বেশ কার্যকর হবে। তাই তরুণদেরকে দক্ষ করে তুলতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান আমাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হওয়া প্রয়োজন। লুক ইস্ট এশিয়া মডেলকে আবার নতুন করে এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির (সিপিএএ) প্রেসিডেন্ট ড. মো: শরীফুল আলম বলেন যে, সিপিএএ একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ফলে আমরা সকলের মতামত ও প্রেক্ষিতকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তবে আমরা জাতীয় স্বার্থকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকি।