নানাবাড়ি থেকে ফেরা হলো না হাফসার

দুই জেলায় প্রাণ গেল আরো ৪ জনের

Printed Edition
নানাবাড়ি থেকে ফেরা হলো না হাফসার
নানাবাড়ি থেকে ফেরা হলো না হাফসার

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

নানাবাড়ি বেড়ানো শেষে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশু হাফসার। অন্য দিকে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরো চারজন।

নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের সালথায় নানাবাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হাফসা আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা ও ইজিবাইকের চালক আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার সোনাপুর-মাঝারদিয়া সড়কের কাগদী বাজার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হাফসা আক্তার পাশের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদী এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আনিস মোল্যার ছোট মেয়ে। সে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মিনহাজদিয়া এলাকার মঞ্জুর মোল্যার নাতনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মামার সাথে নানাবাড়ি মিনহাজদিয়া এলাকায় বেড়াতে আসে হাফসা। রোববার দুপুরে মা চামেলি বেগমের সাথে ইজিবাইকে করে নগরকান্দার বাড়িতে ফিরছিল সে।

পথে কাগদী বাজার মোড়ে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় হাফসা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হাফসার মা ও ইজিবাইক চালক আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে জেলা সদরের দিকে আসার পথে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেয়ে ফারুক আহমেদ (৪১) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমির (রা:) মাজার সংলগ্ন মদনপুর বাজার এলাকার দক্ষিণ পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফারুক আহমেদ কেন্দুয়া পৌর এলাকার চন্দ্রগাতী গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, সকালে ফারুক আহমেদ বাড়ি থেকে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে নেত্রকোনা আসার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মদনপুর বাজার এলাকায় একটি দেয়ালের সাথে সজোরে ধাক্কা লেগে রাস্তার ওপর কাতরাতে থাকেন। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো চারজন। সোমবার দুপুরে ত্রিশালের তিরখী কালিরবাজার ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ত্রিশালের কানিহারী ইউনিয়নের তিরখী কালিরবাজার এলাকায় ময়মনসিংহ-গফরগাঁও আঞ্চলিক সড়কে বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক জসিমউদ্দিন (৩৮) ও এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো চারজন আহত হয়েছেন। নিহত জসিমউদ্দিন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানার সুতিয়াখালী এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত অপর নারীর বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জসিমউদ্দিন যাত্রী নিয়ে গফরগাঁও থেকে ময়মনসিংহ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। তিরখী কালিরবাজার এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের সাথে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক জসিমউদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অটোরিকশায় থাকা পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকথ্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর আহত এক নারী মারা যান। অপর চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, সিএনজি চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে নেয়ার পর একজন নারী মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তার নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ত্রিশাল থানার ওসি মুনসুর আহমেদ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, বালুভর্তি ড্রাম ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

এ দিকে একই দিন দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় রিফাত (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার পাইথল ইউনিয়নের শহীদনগর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।