ইউটিউব দেখে চাষ

টেকসই জাতের না হওয়ায় পচে যাচ্ছে আঙুর

Printed Edition
রাকিব হাসানের আঙুর বাগান : নয়া দিগন্ত
রাকিব হাসানের আঙুর বাগান : নয়া দিগন্ত

রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে আঙুর চাষের ওপর ভিডিও কনট্যান্ট দেখে ঝিনাইদহে নতুন প্রজন্মের অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন এ ফলের আবাদ বেড়েই চলছে। তবে সম্ভাবনাময় এ বিদেশী ফলের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর স্বল্প সংরক্ষণক্ষমতা। অর্থাৎ গাছ থেকে ফল আহরণের পর দ্রুতই পচে যাচ্ছে আঙুর।

কৃষি বিভাগ, উদ্যোক্তা ও চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুর বাগান থেকে সংগ্রহের তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই পচতে শুরু করে। ফলে দ্রুত বাজারজাত করা না গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় চাষিদের। অন্য দিকে বিদেশ থেকে আমদানি করা আঙুর প্রায় এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমানে অনেকেই আঙুর উৎপাদনের চেয়ে চারা বিক্রির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফেসবুক ও ইউটিউবে আঙুরের সফলতা ও লাভজনকতার নানা ভিডিও দেখে তরুণদের একটি বড় অংশ এ খাতে বিনিয়োগ করছেন। জাতভেদে আঙুরের চারা ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে অনেক উদ্যোক্তা হতাশ হতে পারেন বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোমরাইল গ্রামের কলেজছাত্র রাকিব হাসান তার মামা বাড়িতে শখের বশে ‘বাইকুনুর’ ও ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক’ জাতের আঙুর চাষ শুরু করেন। দুই বছর আগে ১০ কাঠা জমিতে ১২০টি চারা রোপণে তার ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪৬ হাজার টাকা। প্রথম বছরেই তিনি প্রায় এক লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেন। চলতি মৌসুমে তিনি সেই বাগান থেকে আরো তিন লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি দুই লাখ টাকার চারার অর্ডারও পেয়েছেন তিনি।

কালীগঞ্জ পৌরসভার কাশিপুর গ্রামের আবিদ নার্সারির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান মাসুদ বলেন, আঙুর আমাদের দেশে সম্ভাবনাময় একটি ফল হলেও এটি দ্রুত পচনশীল। বর্তমান আবহাওয়ায় তিন থেকে চার দিনের বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুর। তাই শুধু চটকদার ভিডিও দেখে না বুঝে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা উচিত নয়। তবে তিনি আরো বলেন, চারা উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: কামারুজ্জামান বলেন, জেলার মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। কেউ নিজ উদ্যোগে আঙুর চাষ করলে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, আমাদের আবহাওয়ায় উৎপাদিত আঙুর দ্রুত পচে যাওয়ায় কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী জাত উদ্ভাবন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ব্যাপক আকারে আঙুর চাষে উৎসাহ দিচ্ছি না। অনভিজ্ঞ কৃষক যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলায় প্রায় ছয় হেক্টর জমিতে আঙুরের চাষ হয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষণক্ষম ও টেকসই জাত উদ্ভাবন করা গেলে আঙুর চাষ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এতে এক দিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্য দিকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।