ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বসুন্ধরা শিবিরে এখন দল গঠনের তোড়জোড়। গত সিজনের ট্রেবলজয়ী তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদার বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা তাদের দখলে। কিন্তু লাইসেন্স না থাকায় বসুন্ধরা কিংসের পক্ষে খেলা সম্ভব হয়নি এবারের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে। আর তা ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারনে। ১৪ বিদেশী ফিফার কাছে অভিযোগ করায় এবং ফিফা তাদের বকেয়া দিতে বসুন্ধরা কিংসকে বাধ্য করায় এ জটিলতার সৃষ্টি। বকেয়া না দেয়া পর্যন্ত বসুন্ধরা কিংসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ফিফা। শেষ পর্যন্ত সব বিদেশীর বকেয়া পরিশোধ করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞা মুক্তির পর এখন চলছে দলটির শিরোপা ধরে রাখার মিশন। যদিও দলটির বেশ কয়েকজন ফুটবলার চলে গেছেন। তবে যারা আছেন এবং বিভিন্ন দল থেকে যাদের পাওয়া যায় তাদের নিয়েই দল গঠন করছে ক্লাবটি।
অবশ্য এবার আর বিদেশী কোচের দিকে ঝুঁকছে না দেশ সেরা এ ক্লাব। বরং গত বছর ক্লাবকে তিন ট্রফি এনে দেয়া এবং চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফে সিরিয়ার আল কারামাহ এর বিপক্ষে জয় এনে দেয়া জিলানী ও রক্সির ওপরও আস্থা রাখছে বসুন্ধরা কিংস। জানান ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান।
বিদেশী কোচের ছায়াতেই এতো দিন থাকতে হয়েছিল সৈয়দ গোলাম জিলানী ও মাহাবুবুর রহমান রক্সিকে। গত বছর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে এ দুই দেশী কোচের ওপরই আস্থা রাখে ক্লাব অফিসিয়ালরা। তাতেই সফল। সিরিয়ার আল কারামাহকে ১-০তে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে কোয়ালিফাই করে বসুন্ধরা কিংস। এরপর আর্জেন্টিনার কোচ আনা হয়েছিল বড় আশা নিয়েই। তবে এই আর্জেন্টাইন কোচ কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেননি। তাই লিগের প্রথম পর্ব শেষেই তাকে আর আর্জেন্টিনা থেকে ফেরত আসতে বলা হয়নি। ফলে লিগের বাকি পর্ব এবং ফেডারেশন কাপে দলকে পার করান জিলানী ও রক্সি। দুই কোচের ছোঁয়াতে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার ও ফেডারেশন কাপ জয়। তাই এবার তারাই থাকছেন দলের কোচ। ইমরুল হাসান জানান, ‘আমরা কিভাবে জিলানী ও রক্সিকে উপেক্ষা করব। তারাইতো আমাদের গত সিজনে সাফল্য এনে দিয়েছে। যদি তাদের দায়িত্ব না দিয়ে বিদেশীকে আনি তাহলে তা বড় অন্যায় হয়ে যাবে।’
বসুন্ধরা কিংস এবার হারিয়েছে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এদের মধ্যে আছেন ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, সাদ উদ্দিন, সোহেল রানা জুনিয়র, শাহরিয়ার ইমন ও রিমন হেসেন। গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোকে অবশ্য এবার নতুন দল খুঁজতে বলা হয়েছিল। তাই ফাহিম, সোহেল রানাদের সাথে তিনি মোহামেডানে চলে গেছেন।
জিকো চলে গেলেও পোস্টের নিচে সমস্যা হবে না বসুন্ধরা কিংসের। কারণ দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দীর্ঘদেহী গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ থেকে গেছেন এ ক্লাবে। জাতীয় দলের এ গোলরক্ষক এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। এ ছাড়া ডিফেন্সে তপু বর্মন, বিশ^নাথ ঘোষ, মিডফিল্ডে সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন থেকে যাচ্ছেন। সৈয়দ শাহ কাজেম কিরমানী এবার খেলবেন বসুন্ধরা কিংসে।
সাফ কোটায় ক্লাবটি ভুটানের স্ট্রাইকার চেনচো গেলস্টেইনকে নিয়েছে তারা। এ ছাড়া নেপালী ডিফেন্ডার রোহিত চাঁদও এবার বসুন্ধরা কিংসের জার্সি গায়ে খেলবেন। উইংগার মানেশ দাঙ্গিও এবার বসুন্ধরা কিংসে। আর বিদেশী কোটায় নাইজেরিয়ান এমেকা অগবগকে নিয়েছে তারা। গত সিজনে ঢাকা আবাহনীতে ছিলেন এ ফরোয়ার্ড। আরো বেশ কিছু বিদেশীর বায়োডাটা জমা পড়েছে ক্লাবে। সেখান থেকে বাছাই করে নেয়া হবে তাদের। দুই-এক দিনের মধ্যেই ক্লাবটির অনুশীলন শুরু হবে।
বসুন্ধরা কিংসের এ ফিফার নিষেধাজ্ঞা মুক্তি দেশের ফুটবলের জন্য দারুণ সুসংবাদ। এর আগে দেশের অপর জনপ্রিয় ক্লাব ঢাকা আবাহনীও ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায়। এতে দেশের তারকা খেলোয়াড়দের দুই বড় ক্লাবে খেলার নিশ্চিত হয়েছে। সে সাথে মোহামেডানের সাথে এখন আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসও থাকছে শিরোপার লড়াইয়ে। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞা এখনও কাটাতে পারেনি ইয়ংম্যান্স ক্লাব ফকিরেরপুল।



