‘চিকেন নেক’ ঘিরে ভারতের মহাপরিকল্পনা

Printed Edition

এস এম মিন্টু

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো দ্রুত শক্তিশালী করছে ভারত সরকার। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধকালীন মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সঙ্কীর্ণ ভূখণ্ডটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে। ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটে এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ যেন হাতছাড়া না হয়, মূলত সেই কৌশল থেকেই এই তোড়জোড়। তবে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই উন্মাদনা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ-ভারত সমীকরণ এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য সরাসরি উদ্বেগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করিডোর বিতর্ক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ

গত বছরের মে মাসে শিলিগুড়ি করিডোর বিতর্ক নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেছিলেন- ভারতের যেমন শিলিগুড়ি করিডোর রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেরও দু’টি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর রয়েছে (উত্তর বাংলাদেশ করিডোর এবং চট্টগ্রাম করিডোর), যা যেকোনো সঙ্ঘাতের সময় রংপুর বিভাগ বা চট্টগ্রামকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের এই ধরনের বক্তব্য এবং সীমান্তঘেঁষা সামরিকায়ন বাংলাদেশের জন্য মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দুই মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শিলিগুড়ি করিডোর রক্ষায় ভারত সরকার বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা চারটি পুরনো ও বন্ধ বিমানঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি একটি বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন এবং একটি ভূগর্ভের রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দফতর থেকে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি বিশদ গোয়েন্দা প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পর জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত জেলাগুলোতে তদারকি ও নজরদারি শুরু করেছে দুই মন্ত্রণালয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের একাধিক সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) একেবারে কাছে এই বিমানঘাঁটিগুলোর অবস্থান এবং সেগুলোর দ্রুত পুনরুজ্জীবনের গতিপ্রকৃতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ি করিডোরের সামরিকায়নকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান ভূ-কৌশলগত সঙ্কট হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন।

চার বিমানঘাঁটি ও একটি বিমানবন্দর : বর্তমান চিত্র

গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সীমান্তঘেঁষা ভারতের সামরিক অবকাঠামোগুলোর বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ-

বালুরঘাট বিমানবন্দর (পশ্চিমবঙ্গ) : বাংলাদেশের পতœীতলা ব্যাটালিয়নের (১৪ বিজিবি) শিমুলতলী সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাহিনগরে এর অবস্থান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এটি পরিদর্শন করেন এবং ডিসেম্বরে ভেতরের ঘন জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়।

আমবাড়ি সামরিক বিমানঘাঁটি (পশ্চিমবঙ্গ) : পঞ্চগড় ব্যাটালিয়নের (১৮ বিজিবি) বাংলাবান্ধা সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত এই পুরনো ঘাঁটিতে রানওয়ের পাশের জঙ্গল সাফ করে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে।

বিন্নাগুড়ি (পাঙ্গা) সামরিক বিমানঘাঁটি (পশ্চিমবঙ্গ) : পঞ্চগড় ব্যাটালিয়নের (১৮ বিজিবি) নারায়ণজোত সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত। গত জানুয়ারি মাসে এখানে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাটি সমতল ও ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

মালদা (ঝলঝলিয়া) বিমানবন্দর (পশ্চিমবঙ্গ) : মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) চাঁনশিকারী সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে মালদা জেলায় অবস্থিত। এই পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটিও ভারতের পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

রূপসী বিমানবন্দর (আসাম) : কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের (২২ বিজিবি) কচাকাটা সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে আসামের ধুবরী জেলায় অবস্থিত। ২০২১ সালে এটি সীমিত পরিসরে চালুর পর এখন পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তের কাছে হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুরক্ষিত সামরিক লজিস্টিকস : ৩৫ কিলোমিটার ভূগর্ভের রেললাইন

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের আধুনিক কৌশল মাথায় রেখে শিলিগুড়ি করিডোরের নিচ দিয়ে একটি ভূগর্ভের রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে ভারত।

রুট : তিনমাইল হাট এলাকার ডুমডাঙ্গি স্টেশন থেকে রাঙ্গাপানি স্টেশন হয়ে বাগডোগড়া রেলস্টেশন পর্যন্ত। এর দৈর্ঘ্য- প্রথম পর্যায়ে ২২.৪০ কিলোমিটার এবং পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ে ৩৫.৭৬ কিলোমিটার। এর গভীরতা-ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪ মিটার (প্রায় ৭৫-৮০ ফুট) গভীরে।

বিশ্লেষণ : এই গভীরতা মূলত বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ থেকে যোগাযোগব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখবে। প্রকল্পের নকশা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, এটি কেবল বেসামরিক যোগাযোগের জন্য নয়; বরং যুদ্ধকালীন ভারী সামরিক রসদ ও সৈন্য চলাচল অক্ষুণœ রাখার লক্ষ্যেই নির্মিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও ভারতীয় পাল্টা কৌশল : ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান এবং সামরিক কমান্ডের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত শিলিগুড়ি করিডোরকে কেবল একটি ‘দুর্বলতা’ বা কৌশলগত ফাঁক হিসেবে না রেখে এটিকে একটি দুর্ভেদ্য সামরিক দুর্গে পরিণত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে রাফাল যুদ্ধবিমান, ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং তিনটি নতুন সামরিক গ্যারিসন (বামুনি, কিষানগঞ্জ ও চোপড়া) স্থাপন করা হয়েছে।

প্রখ্যাত ভারতীয় ভূ-কৌশলবিদ ভারত কার্নাডের মতে, বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক বা কৌশলগত অক্ষকে ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। ভারতীয় থিংক-ট্যাংকগুলোর একাংশের মত হলো, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রতিবেশীদের ভৌগোলিক দুর্বলতার ওপর কৌশলগত চাপ বজায় রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন : ‘ভারতের মূল ভয় হলো চীনের সাথে কোনো সঙ্ঘাত হলে সেভেন সিস্টার্স যদি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেই ভয় থেকেই তারা এই করিডোরে সামরিক ঘাঁটি শক্তিশালী করছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় রাজনীতিকদের কেউ কেউ যখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন, তা সীমান্তে অনাকাক্সিক্ষত উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও সীমান্ত চাপেও রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে এই অঞ্চলে যেকোনো বৃহৎ সামরিকায়ন আমাদের নিরাপত্তার জন্যও সমান উদ্বেগের।’

বাংলাদেশকে এই পরিস্থিতিতে কেবল পরোক্ষ পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় না থেকে সক্রিয় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ বজায় রাখতে হবে। একই সাথে নিজস্ব সীমান্ত নজরদারি সক্ষমতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বৃদ্ধির মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পুশইন ঝুঁকিতে নতুন মাত্রা : ভারতের এই সামরিক ঘেরাটোপ এবং প্রস্তুতি বাংলাদেশের জাতীয় ও সীমান্ত নিরাপত্তায় মূলত তিন ধরনের প্রভাব তৈরি করবে।

ক) কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ : সার্বভৌমত্বের ওপর অদৃশ্য নজরদারি : সীমান্ত ফাঁড়িগুলোর এত কাছাকাছি (যেমন সাড়ে ছয় বা সাত কিলোমিটার দূরত্বে) সামরিক বিমানঘাঁটি সচল হওয়ার অর্থ হলো বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলগুলো সরাসরি ভারতীয় রাডার, ড্রোন এবং বিমান নজরদারির আওতায় চলে আসা।

মনস্তাত্ত্বিক লিভারেজ : আসামের মুখ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য (রংপুর বা চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার তত্ত্ব) এবং ভারতের প্রখ্যাত কৌশলবিদ ভারত কার্নাডের বিশ্লেষণ পরিষ্কার নির্দেশ করে যে, ভারত এই সামরিকায়নকে বাংলাদেশের ওপর একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক লিভারেজ’ বা চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। বাংলাদেশ যেন কখনো ভারতের কৌশলগত স্বার্থের বাইরে গিয়ে চীন বা অন্য কোনো শক্তির সাথে গভীর সামরিক জোটে না জড়ায়, এটি তারই আগাম বার্তা।

খ) সীমান্তে সামরিক ভারসাম্যহীনতা ও নিরাপত্তাঝুঁকি

অরক্ষিত উত্তর সীমান্ত : বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল (রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ) ঐতিহাসিকভাবেই কৌশলগতভাবে কিছুটা সংবেদনশীল। ভারতের তিনটি নতুন সামরিক গ্যারিসন (বামুনি, কিষানগঞ্জ ও চোপড়া) এবং ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার মোতায়েন এই অঞ্চলে একটি বিশাল সামরিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে।

ভুলবোঝাবুঝি বা ‘মিসক্যালকুলেশন’ : যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি হিসেবে যখন সীমান্তে ভারী সামরিকায়ন হয়, তখন শান্তিকালীন সময়েও যেকোনো ছোট সীমান্ত সঙ্ঘাত বা বিজিবি-বিএসএফের মধ্যকার ভুলবোঝাবুঝি বড় ধরনের কৌশলগত উত্তেজনায় রূপ নেয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

গ) ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন

মনে করা হয়, ভারত মূলত চীনের ‘দোকলাম’ বা চুম্বি উপত্যকা থেকে আসতে পারা সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে এই প্রতিরোধ ব্যূহ বানাচ্ছে। কিন্তু এই দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে মাঝখানে পড়ে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে চীন ও ভারতের যেকোনো সঙ্ঘাতের আঁচ সরাসরি বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে এসে লাগবে।

‘পুশইন’ প্রক্রিয়ার সাথে এই প্রস্তুতির সম্পর্ক

‘পুশইন’ (ভারত থেকে জোরপূর্বক বা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার প্রক্রিয়া) সাধারণত একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জনমিতি এবং নাগরিকত্ব আইনের (যেমন সিএএ/এনআরসি) সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তবে ভারতের বর্তমান সামরিক প্রস্তুতির সাথে পুশইনের পরোক্ষ ও কৌশলগত সম্পর্ক উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এই সম্পর্কটিকে যেভাবে বিশ্লেষণ করা যায় : ক) সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করার পরিকল্পনা : ভারত যখন শিলিগুড়ি করিডোরকে একটি ‘দুর্ভেদ্য সামরিক দুর্গ’ বানাচ্ছে, তখন তারা এর চার পাশের সীমান্ত পুরোপুরি নি-িদ্র বা সিল করে দেবে। এই প্রক্রিয়ায় বিএসএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক চলাচল (তা পুশইন হোক বা পুশব্যাক) সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হবে।

খ) ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’র অজুহাতে পুশইনের চেষ্টা : ভারতীয় নীতিনির্ধারক ও ভূকৌশলবিদদের একটি বড় অংশ প্রায়ই দাবি করেন যে, শিলিগুড়ি করিডোরের জনমিতি বা ‘ডেমোগ্রাফি’ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং একে তারা ভারতের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি মনে করেন।

এই সামরিক গ্যারিসন ও অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ভারত যদি কখনো ওই অঞ্চলের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ‘নিরাপত্তা স্ক্রিনিং’ জোরদার করে, তবে তথাকথিত ‘অনুপ্রবেশকারী’ চিহ্নিতকরণের নামে সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে পুশইনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা সহজ হতে পারে। সামরিক উপস্থিতি বেশি থাকলে প্রতিবেশীকে চাপে রেখে এই ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা সুবিধাজনক হয়।

গ) দ্বিপক্ষীয় দরকষাকষিতে বাংলাদেশের হাত দুর্বল করা : যখন একটি দেশের সীমান্তে অপর দেশ সামরিক ও লজিস্টিক্যালি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে থাকে, তখন যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সঙ্কট- তা পুশইন ঠেকানো হোক, তিস্তার পানিবণ্টন হোক বা সীমান্ত হত্যা বন্ধ- সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতা কমে যায়। ভারত সামরিক শক্তির জোরে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে।