আলজাজিরা
মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক হামলা এবং টানা বিমান অভিযানের পরও ইরানের পেণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখাচ্ছে, দীর্ঘায়িত সঙ্ঘাতে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পেণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ওয়াশিংটনের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মার্চে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় সঙ্ঘাতের নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক মার্কিন বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান দ্রুত নিজেদের সামরিক সমতা পুনর্গঠন করেছে। একই সাথে পেণাস্ত্র হামলার নির্ভুলতাও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানাহর ভাষ্য, ইরানের সামরিক শক্তি এখনো উল্লেখযোগ্য। বড় ধরনের য়তি হলেও দেশটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং নতুন বাস্তবতার সাথে নিজেদের কৌশল মানিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এমন অনেক স্থায়ী ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন, যেগুলো ইরানের আধুনিক ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লার মধ্যে রয়েছে। এসব ঘাঁটির অনেকগুলোই রকেট বা মর্টার হামলা মোকাবেলার জন্য তৈরি হলেও উচ্চমতার নির্ভুল ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র প্রতিরোধে যথেষ্ট সুরতি নয়।
ফলে আকাশ প্রতিরাব্যবস্থা অধিকাংশ পেণাস্ত্র প্রতিহত করলেও অল্প কয়েকটি ল্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারলেই বড় ধরনের প্রাণহানি ও য়তি ঘটছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে জর্দানের সর্বশেষ হামলায় তিনজন নিহত হন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম তিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন একযোগে ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র, ক্রুজ পেণাস্ত্র, ড্রোন এবং ভুয়া ল্যবস্তু ব্যবহার করে বহুস্তরীয় হামলা চালাচ্ছে। এতে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরাব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছে। একাধিক দিক থেকে এবং ভিন্ন গতিপথে পরিচালিত হামলার কারণে সব পেণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিরা বলয় ভেদ করে কিছু অস্ত্র ল্যবস্তুতে পৌঁছাতে সম হচ্ছে। যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন প্রতিরামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক সমতা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর মার্কিন কংগ্রেসেও সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনো তাদের উন্নতমানের কিছু পেণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করছে, যা সঙ্ঘাত দীর্ঘায়িত হলে আরো বেশি ব্যবহৃত হতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অভিমত, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকলেও ইরানের ল্য সরাসরি যুদ্ধ জয় নয়। বরং কম খরচের ড্রোন ও পেণাস্ত্র ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর মানবিক, সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাই তেহরানের প্রধান কৌশল। তাদের মতে, এই অসম যুদ্ধের বাস্তবতায় ইরানকে সম্পূর্ণভাবে সামরিকভাবে অকার্যকর করে ফেলা সহজ হবে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সঙ্ঘাত আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।



