আইন প্রণয়নে সেই চেনা তাড়াহুড়া

সংসদের ইতিবাচক বার্তা বাস্তবায়নে উন্মুখ জনগণ

সমালোচকরা বলছেন, বিলগুলো পাস হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং সংস্কারমুখী। তবে, মাত্র ৯ কার্যদিবসের মধ্যে ছয়টি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করার অর্থ হলো- বিলগুলোর খুঁটিনাটি ও ধারাগুলো নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে এবং মূল সংসদে যতটা বিশদ বিতর্ক হওয়া উচিত ছিল, তা হয়ে ওঠেনি। তড়িঘড়ি করে আইন পাসের যে সংস্কৃতি অতীতে ছিল, তা থেকে পুরোপুরি বের হওয়া এখনো সম্ভব হয়নি।

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল
Printed Edition

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত তৃতীয় অধিবেশনটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন গণতান্ত্রিক কাঠামোর অধীনে গঠিত এই সংসদের তৃতীয় অধিবেশনটি ৯ কার্যদিবসের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য চললেও এর গভীরতা ও পাস হওয়া বিলগুলোর গুরুত্ব সুদূরপ্রসারী। এই অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুশাসন, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী বার্তা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ দুই নেতার দীর্ঘ বক্তব্য দেশের আগামী রাজনীতির জন্য এক নতুন বার্তা দিয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সংসদ কি সত্যিই দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে, নাকি এর কার্যকারিতা কেবলই আইন পাসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল?

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের সমাপনী দিনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, জাতীয় ঐক্য এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সব রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের গালিগালাজ এবং অবমাননাকর ভাষা পরিহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু কাদা ছোড়াছুড়ি ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শিষ্টাচারই সুস্থ রাজনীতির ভিত্তি। দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশ বড়। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘বাংলাদেশ প্রথম’। সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সংসদকে কার্যকর রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও সমস্যা নিয়ে আলোচনার সবচেয়ে বড় মঞ্চ হলো এই সংসদ। আমরা সংসদকে সব রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান তার সমাপনী বক্তব্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং মেধার মূল্যায়নের বিষয়ে সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। একই সাথে তিনি গঠনমূলক বিরোধিতার এক নতুন ধারার কথা উল্লেখ করেন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুর্নীতিরোধকে প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম যদি এখনই টেনে ধরা না যায়, তবে কোনো মেগা প্রজেক্ট বা উন্নয়ন পরিকল্পনাই দেশের মানুষের কাজে আসবে না। দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। চাকরিতে স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, চাকরিতে কোনো দলীয় আনুকূল্য বা অন্যায্য কোটা মেনে নেয়া হবে না। সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে যোগ্য তরুণরা দেশের সেবায় এগিয়ে আসতে পারে। গতানুগতিক অন্ধ বিরোধিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করতে আসিনি। সরকারের ভালো কাজের পাশে আমরা ইতিবাচকভাবে দাঁড়াব। কিন্তু সরকারের ভুলত্রুটি হলে আমরা যেমন গঠনমূলক সমালোচনা করব, তেমনি জনগণের স্বার্থ ক্ষুণœ হলে প্রয়োজনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলব। ভঙ্গুর অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সারের সঙ্কট নিরসনে সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জনদুর্ভোগ লাঘব করাই এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন বাঁকের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে সংসদ নেতার মুখে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ঐক্যের ডাক, অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে অন্ধ বিরোধিতা পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের বার্তা। সব মিলিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংসদের প্রত্যাশা করছে। এখন দেখার বিষয়, উভয় পক্ষ মাঠের রাজনীতিতে এই বক্তব্যের কতটা প্রতিফলন ঘটায়।

তৃতীয় অধিবেশন মাত্র ৯টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালীর বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এ অধিবেশনে তিনটি বিশেষ কমিটিসহ ৪৮টির অধিক সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালীর বিভিন্ন বিধির আওতায় সদস্যগণ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ প্রদান করেছেন। ৬৮ বিধিতে সাতটি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে দু’টি নোটিশ গৃহীত ও আলোচিত হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গৃহীত হয় এবং এর মধ্যে ১৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্য প্রদানের জন্য ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে দুই হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে এক হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।

সূত্র মতে, পাস হওয়া প্রধান আইনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬। বাংলাদেশে বিগত দেড় দশকের গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সাথে দেশের আইনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এর পাশাপাশি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আধুনিকায়নে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তদন্ত ক্ষমতা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিলটি পাস করা হয়। যদিও সম্পত্তি হস্তান্তর বিলসহ অধিকাংশ বিলেই বিরোধী দলের সদস্যরা গঠনমূলক বিরোধিতার পাশাপাশি আরো আলোচনার মাধ্যমে পাস করার দাবি করেছিলেন।

সমালোচকরা বলছেন, বিলগুলো পাস হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং সংস্কারমুখী। তবে, মাত্র ৯ কার্যদিবসের মধ্যে ছয়টি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করার অর্থ হলো- বিলগুলোর খুঁটিনাটি ও ধারাগুলো নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে এবং মূল সংসদে যতটা বিশদ বিতর্ক হওয়া উচিত ছিল, তা হয়ে ওঠেনি। তড়িঘড়ি করে আইন পাসের যে সংস্কৃতি অতীতে ছিল, তা থেকে পুরোপুরি বের হওয়া এখনো সম্ভব হয়নি। একইসাথে তারা বলছেন, মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে এক হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া সংসদীয় জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি শুভ লক্ষণ। তবে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আসা ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র ১৫টির উত্তর দেয়ার বিষয়টি কিছুটা হতাশাজনক। সংসদীয় গণতন্ত্রে কার্যনির্বাহী বিভাগের প্রধানের কাছ থেকে আরো বেশি প্রশ্নের উত্তর আশা করে জনগণ। তারা আরো বলছেন, সংসদকে কেবল আইন পাসের একটি ‘রাবার স্ট্যাম্প’ বা আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্র না বানিয়ে, একে যদি প্রকৃত অর্থেই দেশের নীতিনির্ধারণের মূল কেন্দ্রে পরিণত করতে হয়, তবে আগামী দিনের অধিবেশনগুলোর মেয়াদ আরো বাড়াতে হবে এবং সংসদীয় কমিটিগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে সক্রিয় রাখতে হবে।

সূত্র মতে, তৃতীয় অবিবেশনে সারসঙ্কট নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানের নোটিশের ওপর আলোচনায় দু’পক্ষের এ বিতর্ক হয়। সারা দেশে কৃষকদের মধ্যে সার নিয়ে হাহাকার চলছে বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, সারের সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় সঙ্কট রয়েছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুদ আছে এবং নতুন পরিবেশক নিয়োগসহ সঙ্কট মোকাবেলায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ট্রান্সফার অব প্রপার্টিজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল সরকার ও বিরোধী দল। গত ৬ সেপ্টেম্বর আইন পাসের সময় এটি ইসলামের সম্পত্তি হস্তান্তর নীতির সাথে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের মিত্ররা। তাদের দাবি, বিলটি কুরআন সুন্নাহবিরোধী। জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের একতরফা এ আইনের অংশীদার হতে চান না, তাই তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেছেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়ার দাবি জানান। যদিও সংসদের বাইরে গত কয়েক দিন বিলটির পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক চলছে। ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা মনে করেন, এটি মুসলিম সমাজের উত্তরাধিকার ব্যবস্থা, ফরায়েজ ও নারীদের উত্তরাধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

এছাড়া বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মধ্যে জাতীয় সংসদে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলের ওপর সাতটি আপত্তি জানায় বিরোধী দল। নোট অব ডিসেন্টে বিরোধী সদস্যরা বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের আগে যথাযথ জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টের অধিকাংশ বিষয়ের জবাব দেয়া হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এসআরবি কোনোভাবেই র‌্যাবকে নতুন নামে ফিরিয়ে আনা নয়। র‌্যাব বিলুপ্ত করেই নতুন বাহিনী গঠন করা হচ্ছে।

কেউ কেউ বলছেন, বিগত দু’টি সংসদের তুলনায় বর্তমান সংসদের পরিবেশ ছিল অনেক বেশি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ। অতীতে বিরোধী দলকে সংসদে যেভাবে অবজ্ঞা বা একতরফা আক্রমণ করা হতো, এবার সেই প্রবণতা কম ছিল। সংসদ নেতার রাজনৈতিক শিষ্টাচারের আহ্বান এবং বিরোধীদলীয় নেতার গঠনমূলক সমালোচনা- উভয়ই একটি পরিপক্ব সংসদীয় গণতন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনের সফল সমাপ্তির পর সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বলেন, মতভিন্নতা একটি গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক দিক। তিনি আইনপ্রণেতাদের ভবিষ্যৎ অধিবেশনেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পরমতসহিষ্ণুতা এবং সংসদীয় রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

বিশিষ্টজনদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সংসদে আরো দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন ছিল। মাত্র ৯ দিনের অধিবেশনে ছয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করার কারণে বিলগুলোর ধারা-উপধারা নিয়ে জনসম্মুখে এবং সংসদে পর্যাপ্ত তর্ক-বিতর্ক ও যাচাই-বাছাইয়ের সময় মেলেনি। তড়িঘড়ি করে আইন পাসের পুরনো চর্চা থেকে সংসদকে পুরোপুরি বের করে আনার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি নয়া দিগন্তকে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চায়। তিনি বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ইচ্ছা করলে আইন পাস করতে পারে। তবে সরকার তা না করে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমরা সরকার এবং বিরোধী দল সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা দেশকে স্বাবলম্বী করতে চাই। দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তা করব।