১০ আগস্ট ২০২০

ছুটি নয়, আগামী ১০ দিন লকডাউনে থাকতে হবে : তাবিথ

তাবিথ আউয়াল - সংগৃহীত
24tkt

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়াল বলেছেন, করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকার ঘোষণা দিয়েছে, সাধারণ ছুটি হবে ১০ দিন। এটা সরকারকে পরিষ্কার করে বলা প্রয়োজন ছিল। কারণ এটা ছুটি কাটানোর বিষয় নয়। এ মনোবভাব থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে। আগামী ১০ দিন আমরা যে যে জায়গায় আছি সে জাগাতেই অবস্থান করবো। আমরা নিশ্চিত করব, কাউকে সংক্রামিত করবো না, নিজেও হবো না। সুতরাং আগামী দশ দিন আমরা সবকিছু বন্ধ (লকডাউন) করে রাখবো।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় তাবিথ এ আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ওষুধের কথা শোনা যাচ্ছে, করোনাভাইরাসকে কিউর করার জন্য। ব্যাপারটি সত্য নয়। বলা হচ্ছে যে করোনা প্রতিরোধে ম্যালেরিয়ার ড্রাগগুলো ব্যাবহার হতে পারে। তবে কেউ নিজ উদ্যোগে এসব ওষুধ নেবেন না। ওষুধ নেয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। অনেকেই এই রোগে আগামীতে আক্রান্ত হতে পারি। তাই আমরা চাচ্ছি এটাকে একটা দীর্ঘ মেয়াদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। যাতে করে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর চাপ না পরে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশের মানুষ যখন ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে ঠিক এই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অত্যন্ত আনন্দের। তার মুক্তির কারণে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এই মহামারি থেকে মুক্তি পেতে পারব।

তাবিথ বলেন, বুধবার দেশের এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকে বোঝা গেছে এতে একটু ঘাটতি রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি দেশে ১৩ হাজার টেস্ট কিট আছে, আরো ৩০ হাজার টেস্ট কিট দেশে আনা হচ্ছে। তবে এই টেস্ট কিটগুলো কবে নাগাদ দেশে আসবে এসব যদি জানতাম তাহলে আরো কিছুটা স্বস্তিতে থাকতাম।

আমাদের বলা হয়েছে রাজধানীর ১০টি হাসপাতালে এবং দেশের অন্যান্য জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে অনেকগুলো আইসোলেশন বেড ও করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বলা হচ্ছে না ওই সকল আইসোলেশন বেডে আইসিইউর ব্যবস্থা আছে কি-না।

তিনি বলেন, আমরা শুনতে পেলাম রফতানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। আমরা আরো জানতে চাই রফতানিমুখী শিল্প ছাড়াও দেশে যে সকল শিল্প আছে তাদের ব্যাপারে কত টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে গত দুই মাস ধরে যে দুটি দাবি আমি জানিয়ে আসছি যে, পানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না। কিন্তু ঠিকই এসবের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যদিও এখন বলছে এই বিলগুলো জুনের আগে পরিশোধ করতে হবে না। আমি মনে করি আগে এসবের দাম কমিয়ে তারপর বিল চার্জ করা প্রয়োজিন ছিল। আমরা খুব শিগগিরই একটি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পরতে পারি।

আমরা দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ তারা এই মহাবিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি সরকারে উচিত আহবান জানানো, বেসরকারি খাত, বিশেষ করে চিকিৎসা সেক্টরে সহযোগিতা করার জন্য। আর কিভাবে সহযোগিতা করা সে বিষয়টা পরিস্কার করার জন্য।


আরো সংবাদ