০৩ ডিসেম্বর ২০২০

কোটি টাকা ব্যয়ের টিভি ক্লাসে সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

-

করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সংসদ টিভিতে চলছে প্রাথমিকের ক্লাস। কিন্তু গত তিন মাস ধরে চলতে থাকা এসব ক্লাসের কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। যদিও ক্লাসের রেকর্ডিং থেকে শুরু করে এগুলো সম্প্রচার পর্যন্ত প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল ক্লাস শুরুর পর এখন পর্যন্ত তিন শ’ ক্লাসের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা। অর্থাৎ ক্লাস-প্রতি ৩০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার আগে গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুল, কোচিং ও বাড়িতে প্রতিদিন ৬২৫ মিনিট পড়ালেখায় ব্যয় করলেও এখন তারা মাত্র ১২৪ মিনিট পড়াশোনা করছে। অর্থাৎ দিনে ১০ ঘণ্টা পড়ালেখা কমে হয়েছে মাত্র দুই ঘণ্টা। সেই হিসাবে ৮০ শতাংশ সময় কমেছে পড়াশোনার। টিভিতে ক্লাস চালু করেও টেবিলে ফেরানো যাচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) পক্ষ থেকে এই জরিপ চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ‘ঘরে বসে শিখি’ নামে টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার শুরু করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। স্টুডিওতে শিক্ষকদের নিয়ে ভিডিও ধারণ করে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক ক্লাস সম্প্রচার হয়েছে। তবে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী এ সুবিধার আওতায় এসেছে। বাকি ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী এখনো টিভি ক্লাসের সুফল পাচ্ছে না।
এ দিকে শুরু থেকেই টিভিতে প্রচারিত ক্লাসের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবে মানসম্পন্ন ক্লাস রেকর্ডিং করা যাচ্ছে না এমন কথাও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক স্বীকার করেছেন। তবে মানসম্পন্ন ক্লাস তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্য দিকে অনলাইন বা টিভিতে ক্লাসের ব্যয় অনুযায়ী ফল আসছে না এমন অভিযোগ শুরু থেকেই করে আসছেন অভিভাবকরা। এ জন্য দূরশিক্ষণের ব্যয় কমিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে শিক্ষকদের সম্মানী বাড়িয়ে বাড়তি ক্লাসের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টেলিভিশন ক্লাসের জন্য ডিপিই ব্যয়বাবদ নিজস্ব বাজেট থেকে বরাদ্দের চিন্তাভাবনা করলেও ইউএনডিপি, ইউনেস্কো ও ইউনিসেফ থেকে এক লাখ ডলার (৮৫ লাখ টাকা) অনুদান দেয়ার অঙ্গীকার আসে। বাকি টাকা ডিপিইর করোনাকালীন বিশেষ ফান্ড থেকে পরিশোধ করা হবে।
এ বিষয়ে ডিপিইর মহাপরিচালক ড. ফসিউল্লাহ জানান, প্রথম দিকে ক্লাসের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও পর্যায়ক্রমে আমরা ক্লাসের মান উন্নত করতে পেরেছি। এ ছাড়া অচিরেই রেডিওর মাধ্যমেও ক্লাস চালুর ঘোষণা আসছে। আমরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য শিক্ষাসহায়ক অ্যাপও তৈরি করেছি। এগুলোর মাধ্যমে ¯ু‹ল বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।

 


আরো সংবাদ