ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ইস্তাম্বুল ও অ্যাঙ্কোরেজে হওয়া পূর্ববর্তী সমঝোতা এবং বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে ইউক্রেনের সাথেশান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত মস্কো। একই সাথেতিনি অভিযোগ করেছেন, সম্ভাব্য আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরকারি কর্মকর্তাদের সাথেএক বৈঠকে পুতিন এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
পুতিন বলেন, “ইউক্রেনের উদ্যোগেই শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছিল। ইস্তাম্বুলে অর্জিত সমঝোতা, অ্যাঙ্কোরেজে আলোচিত বিষয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে আমরা আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।”
রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, স্থগিত হয়ে থাকা আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় কিয়েভ নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে রাশিয়ার ভেতরে হামলার পথ বেছে নিয়েছে।
গত বছর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ মে, ২ জুন ও ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের বন্দি বিনিময় হয় এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে একটি খসড়া স্মারকও প্রস্তুত করা হয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ২৮ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ২০ দফায় নামিয়ে আনা হয়। তবে ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ডের কোনো অংশ ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানালে উদ্যোগটি অগ্রসর হয়নি।
এ বছরের শুরুতেও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ২৩-২৪ জানুয়ারি, ৪-৫ ফেব্রুয়ারি এবং ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির বৈঠকগুলোর প্রথম দুটি অনুষ্ঠিত হয় আবুধাবিতে এবং তৃতীয়টি জেনেভায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে নতুন আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সেই আলোচনা কার্যত থেমে যায়।
এর আগে ২০২২ সালে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি খসড়া শান্তিচুক্তির বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা খসড়া চুক্তিতে প্রাথমিক সম্মতিসূচক স্বাক্ষরও করেছিলেন।
যুদ্ধ শুরুর চার বছরের বেশি সময় পর পুতিনের এই মন্তব্যকে নতুন করে শান্তি উদ্যোগের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইউক্রেনের ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও বেশ দূরে থাকায় সমঝোতার পথ সহজ হবে না বলেও মনে করা হচ্ছে।



