ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্য নোয়েল বারো মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বলেছেন, তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের দুই কূটনীতিককে ইরান নিষিদ্ধ করার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ফ্রান্সে কর্মরত দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি আরো বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফ্রান্সে থাকা দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হবে।’
বারো বলেন, গত মাসে তেহরানে ‘হস্তক্ষেপের’ অভিযোগে ফরাসি কূটনীতিকদের অল্প সময়ের জন্য আটক এবং তাদের সাথে করা ‘অসহনীয়’ আচরণের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ফ্রান্সকে জানিয়েছে যে তেহরানে কর্মরত ওই দুই ফরাসি কূটনীতিককে আর ইরানে ফিরতে দেয়া হবে না।
এর আগে ২০ জুলাই বারো জানিয়েছিলেন, ওই দুই ফরাসি কূটনীতিকের একজন সাংস্কৃতিক অ্যাটাশে। গত ১৯ জুলাই রাতে ইরানি কর্মকর্তারা তাদের আটক করে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বারোর অভিযোগ, এটি ছিল ‘কূটনৈতিক সুরক্ষার চরম’ লঙ্ঘন করে।
তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সাথে ‘অত্যন্ত গুরুতরভাবে ভয় দেখানোর মতো আচরণ’ করেছে এবং তাদের একজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে’।
মঙ্গলবার বারো বলেন, ‘ফ্রান্স ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শিল্পী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সমর্থন করে বলেই ১৯ জুলাই দুই ফরাসি কূটনীতিককে পরিকল্পিতভাবে ও নিন্দনীয়ভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল।’
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ কূটনীতিকদের সাথে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কূটনীতিকদের শুধু অল্প সময়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং তারা ‘সুশীল সমাজের সাথে যোগাযোগের অজুহাতে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ করছিলেন।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ওই দুই ফরাসি কূটনীতিক ইরানের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে ‘প্রভাব বিস্তার ও বিদেশী হস্তক্ষেপের একটি বড় পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ইরানে দুই গ্রাফিক শিল্পী আটক
এদিকে সোমবার দুই বিশিষ্ট ইরানি গ্রাফিক ডিজাইনারের সমর্থকেরা বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, আরিয়া কাসাই (৪৬) ও এলি নাগিলু (৩৬)-কেও ১৯ জুলাই আটক করা হয়। ফরাসি কূটনীতিকদের সাথে একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্প নিয়ে বৈঠকের সময় তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং এরপর থেকে তারা আটক রয়েছেন।
সমর্থকদের দেয়া বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকটি কাসাইয়ের তেহরানের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে তারা ‘ভিলা জাদিগ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্পের ভিজ্যুয়াল পরিচিতি বা নকশা নিয়ে কাজ করছিলেন।
তারা দুই ডিজাইনারকে স্বাধীন আইনজীবীর সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি তাদের ‘নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার’ আহ্বান জানিয়েছে।
তারা বলেন, দুই ফরাসি প্রতিনিধি ঘটনাগুলোর একটি অংশ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাই প্যারিসের উচিত গ্রেফতারের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা এবং তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, জানুয়ারির বিক্ষোভে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের ভিত নড়ে যাওয়ার পর এবং পরবর্তীতে দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ সুশীল সমাজের ওপর দমন-পীড়ন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: বাসস



