তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভোগান্তিতে রাশিয়ার মানুষ

ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে অভূতপূর্ব তীব্র পেট্রোল সঙ্কট দেখা দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ চালকদের পাম্পে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ক্রেমলিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক দাবি করলেও রাজধানীর বাইরে জ্বালানি রেশনিং ও পাম্প বন্ধ থাকায় রাশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অসন্তোষ ও বিপর্যয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

নিজ শহর ভোলগদায় ফেরার পথে রুশ দম্পতি ইয়েলেনা ও দিমিত্রিকে একের পর এক চারটি পেট্রোল পাম্প ঘুরতে হয়েছে। অবশেষে পঞ্চম একটি পাম্পে গিয়ে তারা জ্বালানি পান।

মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ভোলগদাসহ রাশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলে এখন জ্বালানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এবারই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি। এতদিন দেশটিতে সহজেই জ্বালানি পাওয়া যেত এবং ইউরোপের তুলনায় এর দামও ছিল অনেক কম। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো এখন রাশিয়ার বহু মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্তি প্রকাশ করে ইয়েলেনা বলেন, ‘কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। দেখি, পেট্রোল আদৌ অবশিষ্ট আছে কি না।’

তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সঙ্কটকে অতটা গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে। পুতিনের অভিযোগ, ইউক্রেনের লক্ষ্য রুশ জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়া।

তবে রাজধানীর বাইরে সাধারণ চালকদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। বিশাল আয়তনের দেশ রাশিয়ায় বেশিভাগ অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়িই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ফলে জ্বালানি সঙ্কট মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

বার্তাসংস্থা এএফপির হিসাব অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জুন মাস থেকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং বা সরবরাহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

ভোলগদায় কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকেরা।

সূত্র : বাসস