সাবেক কমিউনিস্ট পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোট দিচ্ছেন জার্মানির ভোটাররা। সেখানে অভিবাসনবিরোধী, মস্কোপন্থী ও উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় ব্যবধানে জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্টে কয়েক মাস ধরে ৪০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে থাকা এএফডি এবার প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্য সরকার গঠনের লক্ষ্যও নিয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়।
ছোট এই রাজ্যটি বর্তমানে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস মধ্য-ডানপন্থী দল সিডিইউ ও আরো দু’টি ছোট দলের জোট সরকারের অধীনে রয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সভেন শুলৎস আবারো একাধিক দলের জোট গড়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
এএফডির সাথে সহযোগিতা না করার নীতি এখন পর্যন্ত বজায় রেখেছে জার্মানির অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। এটিকে তারা এক ধরনের ‘ফায়ারওয়াল’ বা রাজনৈতিক প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে দেখছে। জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাখার এএফডিকে ‘উগ্র ডানপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে রীতিমতো রকস্টারের মতো উচ্ছ্বাস পাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বড় অনুসারী রয়েছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন।
দৈনিক বিল্ডকে উলরিশ জিগমুন্ড বলেন, ‘ফায়ারওয়াল বা রাজনৈতিক প্রতিরোধব্যবস্থা অন্যরাই তৈরি করেছে। কেউ যদি আমাদের সাথে কাজ করতে না চায়, তাহলে আমাদের একাই এগিয়ে যেতে হবে।’
এমন পরিস্থিতি বা ফলাফল জার্মানির রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের ভয়াবহ অতীতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনুশোচনা ও দায় স্বীকার করে আসা জার্মানি এখন পর্যন্ত উগ্রপন্থী দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এএফডির বড় জয় হলে চ্যান্সেলর মের্ৎসের ওপরও চাপ বাড়বে। স্থবির অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে তার দল এএফডির কাছে পিছিয়ে পড়েছে।
ক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উলফগ্যাং শ্রোডার বলেন, ‘স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি জিতলে মের্ৎসের সমালোচকেরা আরো সোচ্চার হবেন এবং আরো ভালো নেতৃত্বের দাবিও উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
সূত্র : বাসস



