রাশিয়ার হুমকি সত্ত্বেও ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার মিত্রদের

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলা ও হুমকি সত্ত্বেও ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির মিত্ররা। ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৪ আগস্ট) কিয়েভে জড়ো হন পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি |সংগৃহীত

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হামলা ও হুমকি সত্ত্বেও ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির মিত্ররা। ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৪ আগস্ট) কিয়েভে জড়ো হন পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারা।

ইউক্রেনকে সহায়তাকারী ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর ৩০ নেতার বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ।

ফ্রান্স ও জার্মানির নেতারা বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কিয়েভ থেকে এতে অংশ নেন। দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই ছিল বার্নহ্যামের প্রথম বিদেশ সফর। অন্যান্য ইউরোপীয় নেতার পাশাপাশি ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্তাও কিয়েভে উপস্থিত ছিলেন।

বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমার দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই নিন্দনীয় হুমকি সত্ত্বেও আমরা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।’

সম্প্রতি রাশিয়া কিয়েভে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানীর আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।

রাশিয়ার হামলা বাড়তে থাকায় ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক মাসের পর ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, রাজধানীর উত্তরে চেরনিহিভে রুশ ড্রোন হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। পূর্বাঞ্চলের ইজিউমে গোলাবর্ষণে একজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভাষণে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সবার জন্য পরিস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু এমন একটি শক্তি রয়েছে, যা আমাদের দৃঢ়ভাবে হাত ধরে রেখেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি আমাদের পারস্পরিক ঐক্যের শক্তি।’

পরে সন্ধ্যায় মিত্র নেতাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাব দিতে ইউক্রেন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়িয়ে রাশিয়ার ওপর আরো হামলা চালাতে চায়। এ জন্য আমাদের আরো অর্থ প্রয়োজন- অনেক বেশি অর্থ।

বার্নহ্যাম মিত্র দেশগুলোর নেতাদের বলেন, ‘পুতিনকে পরিষ্কার জানিয়ে দিতে হবে যে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে যে ভূখণ্ড দখল করতে পারেনি, ইউক্রেন কখনো তা ছেড়ে দেবে না। আর আলোচনা শুরু করতে হবে বর্তমান সম্মুখসারির অবস্থান থেকে।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তা থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিরত রাখতে রাশিয়া তাদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং উসকানি আরো বাড়বে।’

‘প্যান্ডোরার বাক্স’
ইউরোপীয় ইউনিয়ন সোমবার জানিয়েছে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে আরো ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো (৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার) সামরিক সহায়তা ছাড় করা হয়েছে।

এই অর্থ ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ প্যাকেজের অংশ। এর মধ্যে ৬০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

বৈঠকের আগে ইউক্রেন রাশিয়ার সরবরাহব্যবস্থার ওপর হামলা জোরদার করেছে। দেশটি রাশিয়ার ই-কমার্স জায়ান্ট ওজোনের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে।

ওজোন সোমবার সকালে জানায়, দক্ষিণ রাশিয়ার দু’টি গুদামে আগুন লেগেছে। ড্রোন হামলার হুমকির কারণে আরো দু’টি স্থাপনা খালি করা হয়েছে।

এদিকে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিন শিশু নিহত ও আটজন আহত হয়েছে।

সূত্র : বাসস