পোপ লিও চতুর্দশ স্পেন সফরের দ্বিতীয় দিনে রোববার (৭ জুন) মাদ্রিদে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এক বিশাল ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় নেতৃত্ব দেবেন।
আয়োজকদের আশা, ১০ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। এক সপ্তাহব্যাপী স্পেন সফরের অন্যতম প্রধান আয়োজন এটি।
২০১০ সালের পর কোনো পোপের এটি স্পেনে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানী লেটিজিয়া। গরম আবহাওয়ার মধ্যেও সেখানে বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুসারীর সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি মঞ্চ, সাতটি জায়ান্ট স্ক্রিন, ৬০৮টি লাউডস্পিকার, দুই হাজার ৩০০টি অস্থায়ী শৌচাগার, ১০টি পানির ব্যবস্থা এবং আট সহস্রাধিক ব্যারিকেড।
প্রার্থনা সভার পর পোপ সিবেলেস স্কয়ার থেকে বিখ্যাত গ্রান ভিয়া বাণিজ্যিক সড়ক পর্যন্ত কয়েকশ মিটার পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন। পরে আবার সিবেলেসে ফিরে আসবেন।
শোভাযাত্রার পথজুড়ে ভ্যাটিকানের পতাকার রঙের সাথে মিল রেখে সাদা ও হলুদ রঙের ৩০ সহস্রাধিক কার্নেশন ফুল দিয়ে নকশা করা ফুলের কার্পেট সাজানো হয়েছে।
স্পেন ঐতিহাসিকভাবে গভীরভাবে ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী দেশ হলেও, ইউরোপের অন্যান্য অনেক দেশের মতো এখানেও কয়েক দশক ধরে প্রচলিত ধর্মীয় চর্চা কমে এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার রাতে পোপ সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অর্থনীতির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে একটি বৈঠক করবেন। আধুনিক নাগরিক সমাজ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সংলাপ জোরদার করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
শনিবার রাতে প্রার্থনা জাগরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ফুটবল ক্লাব রিয়েল মাদ্রিদের বার্নাব্যু স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জড়ো হন। তাদের বেশিভাগই ছিলেন তরুণ। অনুষ্ঠানটি গভীর রাত পর্যন্ত চলে।
স্পেন সফরের শুরুতে মাদ্রিদের রাজপ্রাসাদে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে পোপ সমাজে ‘বিভাজনমূলক বক্তব্য’ ও ‘অকার্যকর সরলীকরণ’ বন্ধ করার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইস্যুতে দেশটির বামপন্থী সরকার পোপের নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে মতবিরোধে জড়িয়েছে।
স্পেনের ‘শান্তি ও জনগণের মধ্যে সংহতির প্রতি সক্রিয় অঙ্গীকারের’ও প্রশংসা করেন তিনি।
মঙ্গলবার ও বুধবার পোপের বার্সেলোনা সফরের কথা রয়েছে। সেখানে তিনি বিশেষভাবে সাগ্রাদা ফামিলিয়া ব্যাসিলিকার সদ্য নির্মিত কে আশীর্বাদ করবেন। সম্প্রতি নির্মিত মিনারটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গির্জায় পরিণত হয়েছে।
সফরের শেষ দুই দিন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, তিনি কাটাবেন ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে। অনিয়মিত অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য এই দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসন সঙ্কটই থাকবে তার সফরের আলোচনার মূল বিষয়।
স্থানটিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র: বাসস



