মিয়ানমারের রাজনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ।
শুক্রবার সাধারণ পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি বলেন, দেশটিতে সহিংসতা, গণ-বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং সংগঠিত অপরাধ ব্যাপকভাবে বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো অঞ্চলে।
২০২১ সালে সামরিক জান্তা ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহল বারবার যুদ্ধ থামানো, আলোচনা ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি ক্রমাগত জটিল হচ্ছে।
জুলি বিশপ স্পষ্ট করে বলেছেন, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ মেরুকরণ ও অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে এবং সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা এখনো অত্যন্ত ভয়াবহ।
দেশটির এই দীর্ঘদিনের অস্থিরতা এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত জানান, মিয়ানমার বর্তমানে সাইবার অপরাধের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি মেথামফেটামিন ও আফিমের বড় উৎস এবং ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে হতাহতের দিক থেকে বিশ্বে সবার ওপরে রয়েছে। তীব্র খাদ্য সঙ্কটে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ছয়টি দেশের তালিকায় এখন মিয়ানমার অন্যতম।
দেশটিতে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং আরো ১৬ লাখ মানুষ আশপাশের অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে। শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও মিয়ানমারের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে জাতিসঙ্ঘ। সংস্থাটির বিশেষ দূত সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ থাকার পরও জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মসূচি মিয়ানমারে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের মানুষের পাশে থাকার এবং তাদের সহায়তার আবেদনে সাড়া দিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
মূলত ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী বেসামরিক নেতাদের বন্দী করে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ, সঙ্ঘাত আর রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।
সূত্র : আনাদোলু



