৪৭ বছর পর মুসলিম অধ্যুষিত ভারতের লাক্ষাদ্বীপে মদের লাইসেন্স

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। লাক্ষাদ্বীপের অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম হওয়ায় বহু সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, মদের সহজলভ্যতা সামাজিক সমস্যা, অপরাধ এবং নেশাজনিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
প্রতীকী ছবি

প্রায় পাঁচ দশক ধরে কার্যকর থাকা মদ নিষিদ্ধকরণের আইন বাতিল করল ভারতের লাক্ষাদ্বীপ প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রশাসিত এই দ্বীপপুঞ্জে এবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান, হোটেল ও পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে অ্যালকোহল বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ৫ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন ‘লাক্ষাদ্বীপ এক্সাইজ রেগুলেশন-২০২৬’ এই আইন।

১৯৭৯ সালে চালু হওয়া ‘লাক্ষাদ্বীপ প্রোহিবিশন রেগুলেশন’র মাধ্যমে দ্বীপপুঞ্জটি কার্যত মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে কিছু নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্র ও রিসর্টে সীমিত পরিসরে মদ পরিবেশনের অনুমতি ছিল। নতুন আইনে সেই কাঠামো বদলে মদের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, বিক্রি ও সেবনের জন্য পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য পর্যটন শিল্পকে আরো শক্তিশালী করা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০২৪ সালের লাক্ষাদ্বীপ সফরের পর দ্বীপপুঞ্জকে আন্তর্জাতিক পর্যটন

গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ শুরু হয়।

দেশটির সরকারের মতে, নিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যালকোহল বিক্রির সুযোগ থাকলে বিদেশী পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা সহজ হবে। পাশাপাশি হোটেল ও রিসর্ট শিল্পে নতুন বিনিয়োগ এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। লাক্ষাদ্বীপের অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম হওয়ায় বহু সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দা এর বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, মদের সহজলভ্যতা সামাজিক সমস্যা, অপরাধ এবং নেশাজনিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।