ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল কলেজ- মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক শিশুমৃত্যর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্ট পাওয়ার পর সরিয়ে দেয়া হয়েছে হাসপাতালটির সুপার এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বরকে। প্রত্যেকটি শিশুর মৃত্যুর কারণ নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গতমাসে এক দিনেই মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়। তিন সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালে ৬০টির বেশি শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এমন উদ্বেগজনক তথ্য পেয়ে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয় রাজ্যটির উত্তরাংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গত সপ্তাহে সেই দল কলেজ ঘুরে গিয়ে প্রতিবেদন দেয়। তারা জানিয়েছে, আগস্ট মাসে এ হাসপাতালে ৮৯টি শিশুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান চিকিৎসক প্রলয় আচার্য জানিয়েছিলেন, নতুন করে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কিছু বলেননি তিনি।
প্রলয় জানান, শিশুমৃত্যুর নেপথ্যে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ অপুষ্টি। তাছাড়া জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগজনিত সমস্যা, জন্ডিস ও কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছে বিশেষজ্ঞ দল।
বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে, জেলা স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগে সমন্বয়ের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। পরিকাঠামো ও পরিষেবার ক্ষেত্রেও কিছু ফাঁকফোকর দেখা গেছে। এসব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে।
মেডিক্যাল কলেজের সুপারের অপসারণ প্রসঙ্গে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায় সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট এসেছে। কিছু রদবদল হয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার



