ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর চত্বরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকেই ভিড় বাড়ছে। এদিকে, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে ১৬টি মেট্রো স্টেশন।
লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো বন্ধ করা রয়েছে। এর আগে, বুধবার রাতে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যন্তর মন্তর চত্বর। এদিন মেট্রো স্টেশনগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তবে শিক্ষাবিদ তথা সমাজসৈনিক সোনাম ওয়াংচুককে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ বলেন, ‘আজ আমাদের আন্দোলনের ৩৪তম দিন। আর সোনাম ওয়াংচুকের অনশনের ২৬তম দিন। আমাদের প্রতিবাদ যেমন চলছিল, তেমনই চলবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র না দিলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করব না।’
ওয়াংচুকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনশন প্রত্যাহার করুন। আমরা আপনার জীবনের ঝুঁকি চাই না। আপনার বেঁচে থাকা এই দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
বাইরের লোক ঢুকিয়ে বিজেপি তাদের আন্দোলন ভেস্তে দেয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন অভিজিৎ।
বুধবার সন্ধ্যার পরেই যন্তর মন্তরের নতুন করে ভিড় বাড়তে শুরু করেছিল। নিকটবর্তী ইন্ডিয়া গেট এলাকাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীরা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও সন্ধ্যার পর থেকে একাধিকবার পাথর ছোড়া এবং সংঘর্ষের ঘটনার জেরে পরিস্থিতি দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনার পর যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির ডাকে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তপ্ত হয়েছিল রাজধানী। ছাত্র-যুবকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে বসে আটক হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তার সাথে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে, সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী নেতা-নেত্রীরা। পুলিশ রাহুলকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তোলার সময় তার নাক থেকে রক্তপাত হতেও দেখা গিয়েছিল।
রাহুল বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, তিনটি দাবিতে তারা অনড় রয়েছেন। দাবিগুলো হলো- নিটকাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পাশাপাশি দিল্লিতে ছাত্র-যুবকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত ও দায়ী করা এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনা।
সূত্র: আনন্দবাজার



