ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই) আদানি গ্রুপকে ঘিরে বহুল আলোচিত মামলায় হিন্ডেনবার্গ রিসার্চসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
২০২৩ সালে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আদানি গ্রুপের শেয়ারে হওয়া কয়েকটি বিদেশি লেনদেন নিয়ে তদন্ত করে এসইবিআই। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সন্দেহ, হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই এর তথ্য জেনে কিছু বিনিয়োগকারী আদানি গ্রুপের শেয়ারে ‘শর্ট সেলিং’ করে লাভবান হয়ে থাকতে পারেন।
হিন্ডেনবার্গের ওই প্রতিবেদনে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর আদানি গ্রুপের শেয়ারে ব্যাপক দরপতন ঘটে। এতে গ্রুপটির বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলার কমে যায়। তবে আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এসইবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কিংডন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট মরিশাসভিত্তিক কোটাক-সংশ্লিষ্ট একটি তহবিলের মাধ্যমে আদানি গ্রুপের শেয়ারে শর্ট সেলিং করে প্রায় ২ কোটি ২২৫ লাখ ডলার লাভ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসইবিআইয়ের দাবি, হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে পাওয়া অপ্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই এসব লেনদেন করা হয়ে থাকতে পারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এ ধরনের লেনদেনকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে।
তবে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে হিন্ডেনবার্গের তোলা শেয়ার কারসাজির অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে এসইবিআই। এরপরও হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে লাভবান হওয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।
এ লক্ষ্যে বিদেশে থাকা সংশ্লিষ্ট সম্পদ নিয়েও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে এসইবিআই। মরিশাসে সংশ্লিষ্ট একটি তহবিলের দেউলিয়া কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই করছে সংস্থাটি। উদ্দেশ্য হলো, ওই তহবিল থেকে কোনো অর্থ বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট সম্পদ সুরক্ষিত রাখা।
মরিশাসের সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে ওই তহবিলের কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন রিসিভার নিয়োগ করেছে।
মামলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর মাধ্যমে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশের বাইরে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের বিরুদ্ধেও কতটা নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, তার একটি নজির তৈরি হতে পারে।
হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ও কিংডন ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট অবশ্য কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিদেশে থাকা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কারণে তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হলেও এসইবিআই ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া শুরু করেছে।
অনুবাদ: সাহানুর ইসলাম।
নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।



