হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ পরীক্ষা করছে ভারত : জয়সওয়াল

শুক্রবার নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আমরা অনুরোধ পেয়েছি। অনুরোধটি বর্তমানে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত আইনি ও বিচারিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ ভারত পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

শুক্রবার নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য আমরা অনুরোধ পেয়েছি। অনুরোধটি বর্তমানে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত আইনি ও বিচারিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তি ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ওই ব্যক্তির প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধের বিষয়ে এই মুহূর্তে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। তবে তিনি জানান, যেকোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধই সংশ্লিষ্ট আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিবেচনা করা হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রত্যর্পণ সম্পূর্ণ আইনি বিষয় এবং আইন অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

এদিকে সম্প্রতি রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, পলাতক অন্যান্য নেতাদের সাথে নিয়ে তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় রায় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরবর্তীতে সেই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।