ভারতে প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেল নেটওয়ার্ককে আধুনিকায়ন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন
হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন |সংগৃহীত

রেল পরিবহনে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের লক্ষ্যে ভারত আজ প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছে। এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোজেনভিত্তিক রেল প্রযুক্তি চালু করা গুটি কয়েক দেশের কাতারে শামিল হলো ভারত।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেল নেটওয়ার্ককে আধুনিকায়ন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ভারতের জিন্দ থেকে এএফপি জানায়, ১০ কোচবিশিষ্ট ট্রেনটি ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় হরিয়ানা রাজ্যের জিন্দ ও সোনিপতের মধ্যকার ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে চলাচল করবে। এটি এক হাজার ২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত প্রপালশন সিস্টেমে পরিচালিত হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা একে ট্রেনে ব্যবহৃত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত প্রপালশন ব্যবস্থা বলে দাবি করেছেন।

হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনে ফুয়েল সেলের মাধ্যমে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না; উপজাত হিসেবে শুধু পানি ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয়।

উদ্বোধনী যাত্রার সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘স্বনির্ভর ভারত এবং টেকসই উন্নয়নের পথে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন।’

রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রেনটি সম্পূর্ণভাবে ভারতে তৈরি করা হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, ফুয়েল সেলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে জিন্দে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করা হয়। প্রায় তিন হাজার কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই স্থাপনাটি হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরিচালনায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে, যা একই ধরনের প্রচলিত রেলসেবার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে ব্যয় কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে জার্মানি, জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন পরীক্ষা বা পরিচালনাকারী দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হলো ভারত।

১৮৫৩ সালে মুম্বাই থেকে প্রথম যাত্রীবাহী বাষ্পচালিত ট্রেন চালুর পর থেকে ভারতের রেলব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা সম্প্রসারণে নয়াদিল্লি কয়েকশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারতের রেলওয়ে ৭৪১ কোটি যাত্রী এবং ১৬৭ কোটি টন পণ্য পরিবহন করেছে।

এদিকে, ভারত নিজস্ব নকশায় নির্মিত ‘বন্দে ভারত’ ট্রেনও চালু করেছে, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার।

পাশাপাশি জাপানের ‘শিনকানসেন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজও চলছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম এই উচ্চগতির রেলপথের প্রথম অংশ ২০২৭ সালে চালু হওয়ার আশা করছে ভারত সরকার। বাসস