নেপালে বিধ্বংসী বন্যার ১০ দিন পর শনিবার পৃথক অভিযানে এক বৃদ্ধা ও চীনা নাগরিক এক পুরুষ শ্রমিককে উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা। এদিকে, এখনো নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট অনুসারে, ওই পুরুষকে একটি পানিবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে ত্রিশুলি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার দুজন নেপালি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নেপালি সামরিক কর্মী ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ উদ্ধারকারী দল ২২৫ মিটার (প্রায় ৭৪০ ফুট) দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই পুরুষকে উদ্ধার করেছে এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। ছবিতে দেখা গেছে, তাকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং যাত্রাপথে সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক তার অবস্থা পরীক্ষা করছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী সিসিটিভি কর্তৃক প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে, দুজন উদ্ধারকারী ওই পুরুষকে সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপাল জুড়ে ১২টি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার প্রচেষ্টা ক্রমশ জোরদার করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ এবং প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো প্রকল্প এলাকাগুলোর ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও সুড়ঙ্গগুলোতে জীবিতদের সন্ধান করছে।
শনিবার নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্যাবিধ্বস্ত নুয়াকোট শহরের একটি বাড়ি থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তাকে আকাশপথে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নেপালের সেনাবাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির ভেতরে কাদামাখা অবস্থায় ওই নারীকে খুঁজে পান। একটি ধূসর কম্বলে মুড়িয়ে তাকে নিরাপদে বের করে আনার আগে তারা তাকে বোতলজাত পানি দেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মতে, ২৬ আগস্টের বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৫ হাজার জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। একটি হিমবাহ ধসের কারণে এ আকস্মিক ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক এ বন্যাটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : এপি ও কাঠমান্ডু পোস্ট



