ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ, গ্রেফতার বা হেনস্তা না করার স্পষ্ট নিশ্চয়তা দেয়া হলেই অনশন ভাঙবেন শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে ‘চলো সংসদ’ অভিযানে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও ধৈর্যের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) অনশনের ২৫তম দিনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথা বলেন।
ভিডিও বার্তায় সোনাম ওয়াংচুক বলেন, ‘আমি এখনো বেঁচে আছি।”
তিনি জানান, এই দীর্ঘ অনশনে তার শরীর থেকে প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে গেছে এবং পেশীর মারাত্মক ক্ষয়ও হয়েছে। তবে এতকিছুর পরেও তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় রয়েছেন এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।
ওয়াংচুক বলেন, ‘আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নৃশংস পদক্ষেপ দেখার পরেই আমি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আরো দৃঢ় করি।’
শিক্ষার্থীদের এই সংযমই তার লড়াইয়ের পথকে আরো নতুন করে শক্তি জুগিয়েছে বলে জানান তিনি।
ওয়াংচুক স্পষ্ট করে বলেন, ‘শাসকদলের মন্ত্রীসহ একাধিক নেতা আমাকে অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়েছেন। আমিও নিজের কাজে ফিরতে চাই, কারণ দেশ ও সমাজের জন্য আমার কাজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারের কাছে আমার আকুল অনুরোধ, দয়া করে শিক্ষার্থীদের ওপর গায়ের জোর প্রয়োগ করবেন না। আন্দোলনকারী কোনো তরুণের বিরুদ্ধে যেন মামলা, গ্রেফতার বা আইনি হেনস্তা না করা হয়- এই লিখিত নিশ্চয়তা পেলেই আমি অনশন তুলে নেব। তা না হলে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ২৮ জুন থেকে টানা অনশনে বসেছেন সোনাম ওয়াংচুক। সিজেপির নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদের মূল দাবি ছিল- কেন্দ্রীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে হওয়া বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত ও নিরপেক্ষ জবাবদিহি, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পরে এতে যোগ হয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম আইনি পদক্ষেপ না নেয়ার দাবিও। এই লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যেতে গিয়েই আজ, বৃহস্পতিবার ২৬তম দিনে পৌঁছেছে ওয়াংচুকের এই আমরণ অনশন।
সূত্র: দ্য ওয়াল



