ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দমদম বিমানবন্দর-সংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত আজ সেখানে যেতে পারেননি মুসল্লি ও মসজিদ কমিটির নেতারা।
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির দাবি, প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সরিয়ে নেয়ার গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হঠাৎ করে নামাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কারণেই গত ১১ জুলাই থেকে কোনো প্রকার আগাম নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই আচমকা মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও, মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ করেছে, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতায় (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা (আগের আইনে ১৪৪ ধারা) জারি করায় সেখানে কোনো ধরনের জমায়েত বা কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও ১৬৩ ধারা জারি
আজ সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট ও তার আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে বিধাননগর পুলিশ। মোতায়েন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) এবং জলকামান। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে জারি করা হয় ১৬৩ ধারা, যার ফলে পুরো এলাকা থমথমে হয়ে পড়ে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আজকের জুমার নামাজ এবং শান্তিপূর্ণ দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি তথা জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
তবে আজ দুপুরে বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানান, বর্তমান থমথমে পরিস্থিতিতে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে নিকটবর্তী অন্য একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এদিকে, এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কলকাতার কিছু এলাকায় মুসল্লিদের হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।
মসজিদ কমিটির অভিযোগ
মসজিদ কমিটির দাবি, প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সরিয়ে নেয়ার গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হঠাৎ করে নামাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
পথ বন্ধের অভিযোগ : গত ১১ জুলাই থেকে কোনো প্রকার আগাম নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই আচমকা মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা : মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না।
এদিকে, ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পুনর্বহাল এবং বিমানবন্দরের বন্ধ ৭ নম্বর গেটটি খুলে দেয়ার দাবিতে মুসল্লিদের আন্দোলন ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্তমানে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।



