এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা ও বন্যার শঙ্কা

জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা এবং পরবর্তীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সতর্ক করেছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ড. ধাম্মিকা পাতাবেন্দি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

জলবায়ু পরিস্থিতি এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় তীব্র খরা এবং পরবর্তীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সতর্ক করেছেন দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ড. ধাম্মিকা পাতাবেন্দি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বৈরী আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন ঘটছে এবং প্রকট হয়ে উঠছে।

মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়া এল নিনো এ বছর ফিরে আসায় বাতাসের প্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তীব্র শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সেচ ও সুপেয় পানির মজুত সতর্কতার সাথে ব্যবস্থাপনা করছে।

তিনি আরো বলেন, আগামী দুই মাসে পানির সঙ্কট দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকে সুপেয় পানি সাশ্রয় করে ব্যবহার করতে হবে।

পাতাবেন্দি বলেন, অক্টোবরে শুরু হওয়া উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ‘ব্যাপক বন্যা’ হতে পারে। এ কারণে কৃষকদের নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ অক্টোবরের শুরুতেই প্রধান ধান চাষ মৌসুম শুরু করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের স্বাভাবিক সময়ের আগেই চাষাবাদ শুরু করতে হবে। বিশেষ করে ধানসহ ফসল রক্ষায় বন্যা ব্যবস্থাপনা আরো ভালোভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’

এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে, সরকার এখনো তার হিসাব করেনি। তবে এর প্রভাব কমাতে একটি মন্ত্রীপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানায়, দেশের পানিবিদ্যুৎ জলাধারগুলো বর্তমানে ৫৭ শতাংশ ধারণক্ষমতায় রয়েছে। দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে। এতে জলাধারের পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তারা আরো জানান, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। গত নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া’র আঘাতে এসব এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

দিতওয়ার তাণ্ডবে দুই কোটি ২০ লাখ মানুষের প্রায় পুরো দ্বীপ দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ৬৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। শুধু অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণই বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলার।

সূত্র: বাসস