আনসারুল্লাহ হাউছিরা জানিয়েছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত অবস্থানগুলোতে বিমান হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটি ও খামিস মুশাইত লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
আল জাজিরা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, হাউছিদের বিরুদ্ধে সৌদি বিমান হামলা আসলে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিমান হামলা চালিয়েও ইয়েমেনে হাউছিদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি সৌদি আরব।
২০০৪ সালে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সাদা প্রদেশে আনসার আল্লাহ হাউছি গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। তাদের বিদ্রোহ দমনে সৌদি আরব সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রায় ১০ বছর পর হাউছিরা ইয়েমেনের রাজধানী দখল করে নেয়। এরপর সৌদি আরব ও তার মিত্র জোট হাউছিদের বিরুদ্ধে সাত বছর ধরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
এই সাত বছরে হাউছিদের অবস্থানে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বিমান হামলা চালানো হয়। অর্থাৎ বছরে গড়ে প্রায় ৩৫ হাজার ৭০০টি বিমান হামলা হয়েছে।
কিন্তু এত বিপুল হামলার পরও হাউছিদের অগ্রযাত্রা থামেনি। গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইয়েমেনের একের পর এক প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হয়েছে। এতে সৌদি বিমান হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে।
হাউছিরা সৌদি বিমান হামলা থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখার ও আত্মগোপন করে থাকার কৌশলও ভালোভাবে রপ্ত করেছে। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গোপন অবস্থান ও আকস্মিক হামলার এই কৌশল হাউছিদের বিরুদ্ধে সৌদি বিমান হামলার কার্যকারিতা কমিয়ে দিয়েছে।
ফলে বছরের পর বছর ধরে ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পরও হাউছিদের আঞ্চলিক অগ্রযাত্রা ঠেকানো যায়নি। বরং ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে।



