ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা থেকে তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের বার্তা দেয়া হয়েছে। রোববার (৫ জুন) তেহরানে সমবেত শোকাহত জনতার ঢল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুহুর্মুহু স্লোগান উঠছে। শোকে ঐক্যবদ্ধ ইরানি জনগণ খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
এই শোকানুষ্ঠান এবং বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বকে কয়েকটি স্পষ্ট বার্তা দেয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যে এখনো পুরোপুরি অক্ষত আছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেটিই এই জানাজার মাধ্যমে প্রমাণ করা হচ্ছে। দেশের পুরো শাসনব্যবস্থা ও সশস্ত্র বাহিনী তাদের বর্তমান নেতৃত্বের পেছনে একতাবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আঞ্চলিক রাজনীতি ও ইরানের মিত্রদের উদ্দেশ্যেও বার্তা দেয়া হয়েছে। ক্ষমতার এই হস্তান্তর এবং উত্তরাধিকার নির্বাচন অত্যন্ত সাবলীল ও স্বাভাবিক নিয়মে সম্পন্ন হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্যও একটি বড় বার্তা রয়েছে এতে। বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কট ও যুদ্ধের ধকল সামলেও ইরান এখন কোনো সঙ্কটে নেই। বরং পুরো দেশের মানুষের মধ্যে এখন এক অভূতপূর্ব ঐক্য ও সংহতির পরিবেশ বিরাজ করছে। এই সমস্ত আয়োজনের মূল কথা একটাই, তোমরা আমাদের নেতাকে হত্যা করতে পেরেছ ঠিকই, কিন্তু আমাদের ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে পারনি।
সূত্র : আল জাজিরা



