ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে সরাসরি কোনো হামলা না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে যেন নতুন এক ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের মানচিত্রের ওপর নিজের মুখের অবয়ব বসানো থেকে শুরু করে খার্গে তেলকূপে বোমা হামলার এআই-নির্মিত কাল্পনিক ছবি—একের পর এক পোস্টে তিনি ইরানের অর্থনীতি ধ্বংসের দাবি করেছেন।
এনডিটিভি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এআই-নির্ভর একাধিক পোস্ট দিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। এসব পোস্টে ইরানের তেল রপ্তানি কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দেশটির মুদ্রা রিয়ালের পতনের দাবি করা হয়েছে।
এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। যুদ্ধের আগে এ পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেন, তার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এ পদক্ষেপ নেয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের আরেকটি পোস্টে ইরানের মানচিত্রের ওপর তাঁর পাশ থেকে দেখা মুখের অবয়ব বসানো হয়। আরেকটি নাটকীয় এআই-নির্মিত ছবিতে দেখা যায়, একটি বিমান তেলকূপে বোমা ফেলছে। ছবিটির সঙ্গে লেখা, ‘বাই বাই, খার্গ।’
এদিকে ইরান ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই আক্রমণের জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ‘সমানুপাতিক জবাবের যুগ শেষ।’ তিনি বলেন, ‘ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে আরও দ্রুত, আরও তীব্র এবং আরও বেদনাদায়ক।’ ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ ঘোষণা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধরেখা থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরের কিছু এলাকা এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নতুন এ অঞ্চলে প্রবেশকারী যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে।
প্রায় এক মাসের নীরবতার পর গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালালে দুই পক্ষ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে।



