পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে হঠাৎ করেই কমে গেল ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা। নিউ ইয়র্ক টাইমস বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধে কত মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছে তা নিয়ে পেন্টাগনের গোলমেলে তথ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আর এই তথ্য লুকোচুরিতে ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির থলে থেকে বেড়িয়ে পড়েছে আসল বিড়াল।
বুধবার পেন্টাগনের ক্যাজুয়ালটি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছিল, ইরান যুদ্ধে মোট ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার আসতেই সেই সংখ্যা কমিয়ে ১৪ করা হয়। এই চারজন সেনার লাশ কেন ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হলো, তা নিয়ে তিনজন সামরিক কর্মকর্তা এবং পেন্টাগনের এক মুখপাত্র পুরোই পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই চারজন মারা যাওয়ায় তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন জর্ডানে এবং একজন উত্তর ইরাকে নিহত হন।
অন্যদিকে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভ্যালডেজ দাবি করেছেন, ওয়েবসাইটে 'সাময়িক ডেটা ত্রুটির' কারণে এটি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ হওয়ার পর থেকেই মার্কিন বাহিনী তাদের সামরিক কৌশল এবং আহত সেনাদের তথ্য চেপে যাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের যুক্তি , যেসব ঘাঁটিতে তাদের সেনারা রয়েছে, সেখানে ইরানি হামলার তথ্য প্রকাশ করলে নাকি তাদের 'অপারেশনাল নিরাপত্তা' হুমকিতে পড়বে। অথচ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিনিদের ওপর তিনটি বড়সড় ইরানি হামলার তথ্য বেমালুম চেপে গেছে পেন্টাগন। ওই হামলাগুলোতে ডজনখানেক মার্কিন সেনা আহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জর্ডানে ইরানি হামলায় বহু সেনা আহত ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও চেপে গিয়েছিল পেন্টাগন। পেন্টাগনের মূল মুখপাত্র শন পার্নেল অবশেষে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, ৭ জুলাই থেকে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১০০ তে পৌঁছেছে।
আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের প্রবীণ কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল বেন হজেস তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, মার্কিন প্রশাসন শুধু হতাহত নয়, পুরো যুদ্ধ নিয়েই সত্য গোপন করছে। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে তাদের অনীহাই এতে স্পষ্ট।
অথচ এই ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ২০২১ সালে কাবুলে বিমানবন্দর হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কামালা হ্যারিস ও লয়েড অস্টিনকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে রাজনীতির মাঠ গরম করেছিলেন। অথচ আজ তারাই নিজেদের আমলেই সেনা মৃত্যুর হিসেব গোপন করার পাঁয়তারা চলছে।
বুধবারে পেন্টাগনের হিসেবে ১১ জন সরাসরি হামলায় এবং ৭ জন দুর্ঘটনায় মারা গেছে বলে দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা কমিয়ে ৭ জন হামলায় নিহত দেখানো হয়। যদিও ট্রাম্প নিজেই বৃহস্পতিবার এক মন্তব্যে বলেছেন, 'মৃত্যু ১৮ জনই।' বুধবারে তিনি দোভার বিমান ঘাঁটিতে নিহত চার সেনার কফিন গ্রহণের সময় তাদের ‘বীর’ বলে আখ্যা দেন এবং পরে এক সেনার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে নিয়ে জর্জিয়ায় নিজের রাজনৈতিক সমাবেশে হাজির হন।



