ইরানের ওপর মার্কিন হামলা তীব্র হওয়ার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। যেকোনো উত্তেজনার মুখে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকে বীরত্ব ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। তবে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, মার্কিন হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তেহরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব একযোগে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন এক স্থানীয় রেডিও সাক্ষাৎকারে হুমকি দিয়েছেন, 'ইরান কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে চরম জবাব দেয়া হবে।' মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে তিনি জানান, তেহরান যাতে পারমাণবিক ক্ষমতার মালিক হতে না পারে এবং সেখানে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে, সেটাই তাদের চাওয়া। এমনকি ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চুক্তিকে অনর্থক দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ইসরাইলি প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, আমেরিকা আগামী দিনগুলোতে ভারী বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের জাতীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করতে চায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইরান থেকেও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসতে পারে বলে চরম আতঙ্কে রয়েছে তেল আবিব। এই প্রতিরক্ষা সমন্বয় নিশ্চিত করতে আগামী সপ্তাহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকেরও আলোচনা চলছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরাইল অন্যায়ভাবে ইরানের ওপর আক্রমণ চালালে এ সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে ইরানের বাহিনীও পাল্টা হামলা চালায়। গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তির জন্য সমঝোতা স্মারক সই হলেও সম্প্রতি কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে আবারো পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।



