দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
শনিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক কমান্ড বলেছে, “সব ধরনের নৌযান চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “যদি এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তবে শত্রুকে তার বাধ্যবাধকতা পালনে বাধ্য করতে পরবর্তী পদক্ষেপও পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।”
এদিকে, ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও লেবাননের ভূখণ্ড দখলের যেকোনো ইসরাইলি প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
গোষ্ঠীটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত রাতে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়াহ অঞ্চলের কাছে অগ্রসর হওয়া ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন তাদের যোদ্ধারা।
শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এবং শনিবার পর্যন্ত চলমান ইসরাইলি অভিযানকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেছে হিজবুল্লাহ। তারা দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে তারা তা কঠোরভাবে মেনে চললেও ইসরাইল শুরু থেকেই চুক্তি ভঙ্গ করে আসছে।
হিজবুল্লাহ আরো বলেছে, “শত্রুপক্ষের প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অতীত ইতিহাস বিবেচনায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।”
বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি স্পষ্ট করে জানায়, “যুদ্ধবিরতি মেনে চলার পাশাপাশি শত্রুর যেকোনো ভূখণ্ড দখল কিংবা দখলদারিত্ব সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে আমরা দ্বিধা করব না।”
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি



