শহীদ নেতার ‘পবিত্র রক্তের’ বদলা সঠিক সময়ে নেয়া হবে : ইরান

এদিকে ইরানের খ্রিষ্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শহীদ নেতার জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ‘পবিত্র রক্তের’ বদলা সঠিক সময়ে নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান।

দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বুধবার (১ জুন) জানিয়েছে, খামেনী এবং ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যারা এই অপরাধ করেছে, উপযুক্ত সময়ে ‘ন্যায়পরায়ণ শক্তির’ হাতে তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

তেহরানে খামেনীর বাসভবনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই মার্কিন-ইসরাইলি হামলা চালানো হয়। বৃহস্পতিবার থেকে তেহরান, কোম ও মাশহাদ শহরে পাঁচ দিনব্যাপী তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর এক বিবৃতিতে বলেন, শাহাদাত বরণের মুহূর্তে শহীদ নেতার উত্তোলিত মুষ্টিবদ্ধ হাত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের স্থায়ী প্রতীক হয়ে থাকবে।

গত ২৪ মার্চ মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় সাবেক নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর আইআরজিসির সাবেক এই কমান্ডারকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

জোলকাদর স্পষ্ট করে বলেন, মহান খামেনী এবং ইরানের মজলুম শহীদদের পবিত্র রক্তের বদলা নেয়ার ফাইল এখনো বন্ধ হয়নি। অপরাধী এবং তাদের নির্দেশদাতারা খুব দ্রুতই সঠিক সময়ে ন্যায্য শাস্তি পাবে।

এদিকে ইরানের অভিভাবক পরিষদ বা গার্ডিয়ান কাউন্সিল আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শত্রুরা ইরানি জাতির মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য এই নৃশংস অপরাধ করেছে। কিন্তু তারা জানে না যে নেতার এই শাহাদাতই প্রতিরোধের আগুন হয়ে উঠবে এবং বিজয়ের পথ দেখাবে।

শহীদ নেতার জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানকে এই পরিষদ ইসলামিক ব্যবস্থার টিকে থাকার লড়াইয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কাউন্সিল দেশের জনগণকে বিপুল সংখ্যায় এই জানাজায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এটি কেবল শোকের অনুষ্ঠান নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে নেতার দেখানো মর্যাদা ও প্রতিরোধের প্রতি জনগণের আনুগত্যের প্রকাশ।

পরিষদ আরো জানিয়েছে, এই জানাজা অনুষ্ঠান নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনীর প্রতি জনগণের সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য আনুগত্যের অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে বিশ্বের কাছে বার্তা যাবে যে, নেতার চলে যাওয়ার পরও ইরান জিহাদ ও আইনের পথ থেকে এক চুলও পিছু হটবে না।

এদিকে ইরানের খ্রিষ্টান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শহীদ নেতার জানাজা ও শোক অনুষ্ঠানে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

শত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য দেশের সতর্ক জনগণ ও বীর যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে ইরানের অভিভাবক পরিষদ।