মার্কিন হামলায় ইরানের বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস, ক্ষুব্ধ জাতিঙ্ঘ প্রধান

ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার এই বিরোধের কোনো সামরিক সমাধান নেই। জাতিসঙ্ঘ প্রধান একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই মীমাংসার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতিসঙ্ঘ প্রধান
জাতিসঙ্ঘ প্রধান

ইরানের ওপর মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসন ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, বিশেষ করে ইরানের ভেতরে এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদালো জানিয়েছে, শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক মহাসচিবের এই অবস্থানের কথা জানান।

মার্কিন বাহিনী শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের পাঁচটি সেতু এবং একাধিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এটি ছিল ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনীর টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ, সিরিক এবং ইরানশাহর এলাকায় মার্কিন হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং আরও বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একটি মার্কিন হামলা সরাসরি ইরানশাহর বিমানবন্দরে আঘাত হানে। এতে একজন আহত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্ধরের বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং একটি জ্বালানি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চাবাহার শহরের শহীদ কালান্তারি বন্দরে তৃতীয় দফা হামলার পর সেখানকার মেরিটাইম কন্ট্রোল টাওয়ারটি ধসে পড়েছে।

জাতিসঙ্ঘের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক মহাসচিব গুতেরেসের দৃঢ় বিশ্বাসের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার এই বিরোধের কোনো সামরিক সমাধান নেই। জাতিসঙ্ঘ প্রধান একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই মীমাংসার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যোগ করেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী এবং এর আশেপাশে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা পুরোপুরি পুনর্বহাল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই অঞ্চলের উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে তেহরানও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধারণকারী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। তবে গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।