মার্কিন রণতরী ও ডেস্ট্রয়ারে হামলা

ইরানের হামলায় যুদ্ধের গতিপথ বদলে যেতে পারে, বলছেন বিশ্লেষক

'ইরানিরা নিছক দুটি আটপৌরে যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করেনি। তাদের নিশানায় ছিল একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং, আরও উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত একটি বিমানবাহী রণতরী।'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী |সংগৃহীত

ইরান এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিছক দুটি সাধারণ যুদ্ধজাহাজ নয় বরং সরাসরি একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং একটি বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, এটি ইরানের হামলার কৌশলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হিসাব কষে নেওয়া এক ধরনের বড় উত্তেজনা বৃদ্ধির পদক্ষেপ।

আল জাজিরা রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, পুস্তাই বলেন, ইরান এমন দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করেছে, যেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, 'ইরানিরা নিছক দুটি আটপৌরে যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করেনি। তাদের নিশানায় ছিল একটি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং, আরও উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত একটি বিমানবাহী রণতরী।'

মার্কিন বাহিনী শেষ পর্যন্ত হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুস্তাইয়ের ভাষায়, এই হামলা ছিল তেহরানের জন্য ‘একটি সৌভাগ্যজনক সুযোগ’। তার মতে, ইরানের হামলা সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারলে ওয়াশিংটনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতো।

পুস্তাই বলেন, ‘কীভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে এবং আদৌ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে কি না—এ নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা শুরু হতো।’

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। আর এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলা চালিয়েছে।’

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে অভ্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা নিয়ে এসেছে। কারণ, তেহরান যে সরাসরি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পর্যন্ত নিশানা করতে পারে, সেটিই এখন সংঘাতের নতুন মাত্রা হয়ে উঠেছে।