ইস্পাহানের পরমাণু কেন্দ্রে ইসরাইল ও মার্কিন হামলা: যা বলল ইরান

ইরানে বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর চক্রান্ত কাজ করছে। কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস ছাড়াই সামাজিক মাধ্যমের সুযোগ নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা তৈরি, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করাই এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ইস্পাহান প্রদেশের অন্যতম একটি পরমাণু কেন্দ্র
ইস্পাহান প্রদেশের অন্যতম একটি পরমাণু কেন্দ্র |হামশাহরি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানের ইস্পাহানের স্পর্শকাতর পরমাণু কেন্দ্র ও স্থাপনাগুলোতে জোরদার সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার স্পেসে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান তার জবাব দিয়েছে। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে এই হামলার দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

তেহরানের নগর পরিষদ প্রকাশিত ইরানের অন্যতম প্রধান দৈনিক হামশাহরি শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, ইস্পাহান প্রদেশের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির জনসংযোগ ও প্রচার বিভাগ প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই খবরের সত্যতা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের ইস্পাহানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার যে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, তা পুরোপুরি ভুয়া। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো হামলার ঘটনাই ঘটেনি।'

আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানে বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর চক্রান্ত কাজ করছে। কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস ছাড়াই সামাজিক মাধ্যমের সুযোগ নিয়ে মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা তৈরি, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করাই এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ জনগণকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো অনিশ্চিত খবর, পুরনো ছবি কিংবা বেনামী উৎসের তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো নিরাপত্তা সম্পর্কিত ঘটনার বিষয়ে কেবল সরকারি কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করা হয়, জনগণের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি রক্ষা করা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত অগ্রাধিকার। যেকোনো ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইআরজিসি এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।