মার্কিন সেনাদের বন্দি করার দাবি করেছে ইরান। সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে অতর্কিত ও ভয়াবহ আঘাত হেনেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনি বা আইআরজিসি। শুধু হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তেহরান, মার্কিনীদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনাকে বন্দি করার দাবি করেছে তারা। পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে সরাসরি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে—আমেরিকার এই শয়তানি আর দুই-তিন দিন চললে পুরোদস্তুর সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করবে ইরান, তখন কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভারতের এনডিটিভি এবং ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা-র প্রতিবেদনে এই রণক্ষেত্রের খবর ও তেহরানের কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন আগ্রাসনের দিন শেষ। এবার আর তারা কেবল সমানে-সমান বা পাল্টা আঘাতের বৃত্তে সীমাবদ্ধ থাকবেন না।
ইরানের বীর ও দূরদর্শী জনগণের উদ্দেশ্যে আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগ থেকে তাদের ১৯ নম্বর বিবৃতিটি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, আমেরিকার শিশুহত্যাকারী সেনাবাহিনীর নানাবিধ শয়তানি এবং আগের রাতে ইরানের ইরানশাহরে শহীদ হওয়া সেনাদের রক্তের বদলা নিতে সিরিয়ার কমান্ড সেন্টারে এই গোপন অপারেশন চালানো হয়েছে। বীর যোদ্ধারা ‘অপারেশন নাসর ২’-এর ১১তম তরঙ্গে এই আকস্মিক হামলাটি চালায়। অভিযানের সাংকেতিক নাম, মোবারক বা ‘আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন’। এই পুরো লড়াইটি উৎসর্গ করা হয়েছে ইরানশাহরের বামপুরের মজলুম শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি।
আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের যোদ্ধারা সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় মার্কিন শত্রুদের বিশেষ অভিযানের মূল ঘাঁটিতে এমনভাবে হানা দেয় যে মার্কিনীরা সামলে ওঠার সুযোগই পায়নি। এই নিখুঁত হামলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর কমান্ড সেন্টারটি গুঁড়িয়ে গেছে। একই সাথে সেখানে থাকা একটি রাডার সিস্টেম এবং বেশ কয়েকটি বিশেষ অভিযানের হেলিকপ্টার পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে মার্কিন সেনা নিহতের পর। ইরান জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে তারা বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে বা বন্দি করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা ও মেজর জেনারেল মহসেন রেজায়ি শুক্রবার সাফ জানিয়ে দেন, আমেরিকা যদি আর দুই বা তিন দিনও ইরানের ওপর এই হামলা বা আগ্রাসন অব্যাহত রাখে, তবে ইরান পুরোদস্তুর সম্মুখ ও সর্বাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযানে নেমে পড়বে। ইরানের সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-র বরাতে রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইরান আর সীমিত আকারের পাল্টা জবাবে আটকে থাকবে না। এবার লড়াই অন্য মাত্রায় যাবে এবং তখন কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর নিরাপদ থাকবে না।'
এই সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের পুরো ভূ-রাজনীতিই ওলটপালট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে শেষ বার্তা দিয়ে রেখেছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনও ইরানের যোদ্ধাদের হাতেই রয়েছে। যতদিন পর্যন্ত আমেরিকার এই শয়তানি কাজকর্ম বন্ধ না হবে, ততদিন এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি হতে দেয়া হবে না। অর্থাৎ, আমেরিকার সামান্যতম ভুল চালে পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ধস নামিয়ে দেয়ার সব প্রস্তুতিই সেরে রেখেছে তেহরান।



