উত্তেজনা বাড়লেও রাজনৈতিক লাভের হিসাব দেখছে ইরান

জুনসের ভাষায়, ‘ওয়াশিংটন থেকে যতবারই উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ আসবে, ইরানও কোনো না কোনোভাবে তার জবাব খুঁজে নেবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তেহরানের দেয়াল চিত্রের পাশে দিয়ে চলছেন এক নারী
তেহরানের দেয়াল চিত্রের পাশে দিয়ে চলছেন এক নারী |ওয়ানা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়লে সামরিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কিন্তু তারপরও তাতে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের সুযোগ দেখছে ইরান। তেহরান হয়তো এমনকি নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধিকে স্বাগতও জানাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্টিফেন জুনস।

আল জাজিরা সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, স্টিফেন জুনস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের জবাবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে যাচ্ছে। জুনসের ভাষায়, ‘ওয়াশিংটন থেকে যতবারই উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ আসবে, ইরানও কোনো না কোনোভাবে তার জবাব খুঁজে নেবে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক শক্তির কারণে দুই পক্ষের শক্তির ব্যবধান অনেক বেশি। ফলে এটি মোটেও সম শক্তিধর দুই পক্ষের লড়াই নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। সামরিক পরিভাষায় এ ধরনের পরিস্থিতিকে অপ্রতিসম বা অসম লড়াই বলা হয়।

জুনস বলেন, ইরান এটাও বুঝতে পারছে যে রাজনৈতিকভাবে তাদের কিছুটা সুবিধা রয়েছে। কারণ, তারা জাহাজ চলাচল এবং যুক্তরাষ্ট্র, তার মিত্রদের বিভিন্ন সম্পদের ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, তেহরান হয়তো উত্তেজনা বাড়তে দেখেও খুব একটা পিছিয়ে যাচ্ছে না। কারণ, ইরানের নিজের যত ক্ষতিই হোক না কেন, পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে কিছু কিছু সুবিধা আদায় করা সম্ভব বলে তারা মনে করছে। পাশাপাশি এর আরেকটি দিকও রয়েছে। জুনসের ধারণা, ইরান হয়তো একই সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখছে, ওয়াশিংটন আসলেই উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী কি না। যদিও ইরান দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা প্রতিক্রিয়া বজায় রাখতে গেলে জনবল ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে ‘লজিস্টিক সমস্যায়’ পড়তে পারে।

তবে পুরো হিসাবটিই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তিসংগতভাবে আচরণ করছে কি না, তার ওপর। এ জায়গায় জুনসের সন্দেহ রয়েছে। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন ছিল ‘আবেগপ্রবণ’ ও ‘হঠকারী’। জুনস বলেন, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, নাকি তা সহিংসতা ও উত্তেজনার অন্তহীন চক্রে আরেকটি সাময়িক বিরতি হিসেবেই থেকে যাবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।