গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নীরব অস্ত্র ক্ষুধা

গাজার ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখে না এবং সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু ইসরাইল এই সাহায্য প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
খাবার সংগ্রহ করছে গাজার শিশুরা
খাবার সংগ্রহ করছে গাজার শিশুরা |সংগৃহীত

গাজায় অবস্থিত ফিলিস্তিনি সরকারের তথ্য দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরাইল ‘নীরবে জনগণকে অনাহারে রাখার’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং এই অঞ্চলের প্রয়োজনীয় খাদ্যের ৬৫ শতাংশ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, গাজার ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখে না এবং সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু ইসরাইল এই সাহায্য প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

গত তিন বছরে গাজার জনগণের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে সব ধরনের অপরাধ সংঘটনকারী ইসরাইল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক সমর্থনের ছত্রছায়ায় এই অপরাধগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইল আপাতত গাজায় বোমা হামলা বন্ধ রেখেছে, এই ভূখণ্ডের জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি আরোপের পথ অনুসরণ করছে।

ইসরাইল গাজাকে সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে (পানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে এবং খাদ্য সরবরাহ কঠোরভাবে সীমিত করে) উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে ইসরাইল শুধু সাহায্য পৌঁছানোই বাধা দিচ্ছে না, বরং উৎপাদন পরিকাঠামো ধ্বংস করে এবং একইসাথে সাহায্যের আগমন রোধ করে একটি পরিকল্পিত মানবিক সঙ্কটও তৈরি করছে।

গাজার জনগণের বিরুদ্ধে অনাহার নীতি বাস্তবায়নে ইসরাইল দু’টি প্রধান লক্ষ্য অনুসরণ করছে। প্রথম লক্ষ্য হলো গাজায় বসবাসের অযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে মানুষ তাদের বাড়ি ও খামার ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় অর্থাৎ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি। ইসরাইল এখন পর্যন্ত বোমা হামলা চালিয়ে এবং এই ভূখণ্ডকে বসবাসের অযোগ্য করে গাজার জনগণের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ঘটানো যায় এবং গাজা উপত্যকার সম্পূর্ণ দখলের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা যায়, কিন্তু তারা এখনো এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তাই, তারা অতীতের চেয়ে আরো তীব্রভাবে গাজার জনগণকে অনাহারে রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

এই নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জনগণ ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের মধ্যে একটি দূরত্ব তৈরি করা। অন্য কথায়, ইসরাইলি পরিবারগুলোর জীবিকার ওপর আঘাত হেনে অভ্যন্তরীণ সামাজিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, যাতে জনগণের ক্ষোভ দখলদারদের পরিবর্তে প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীগুলোর দিকে পরিচালিত হয়। তবে তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে বাস্তবে এই কৌশলের ফল হয়েছে বিপরীত।

আইনগতভাবে জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রোটোকল অনুসারে, যুদ্ধের একটি উপায় হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের অনাহারে রাখা নিষিদ্ধ। সংঘাতের পক্ষগুলো বেসামরিক নাগরিকদের কাছে খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক সহায়তা দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর অনুমতি দিতেও বাধ্য।

তথাপি, ইসরাইল গাজার জনগণের বিরুদ্ধে এই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ আমেরিকার ভেটো ক্ষমতা এবং তেল আবিবের প্রতি ওয়াশিংটনের সর্বাত্মক সমর্থনের ছত্রছায়ায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ইসরাইলের অপরাধ বন্ধ বা সীমিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অক্ষম।

সূত্র : পার্সটুডে