যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির ঘোষণাকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাগত জানিয়েছে। একইসাথে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং অন্যান্য দেশের অবদানও ব্যাপকভাবে আলোচনায় চলে এসেছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথম এই প্রাথমিক চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার মতো একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিচে বিভিন্ন দেশের ও সংস্থার প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো-
‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’: জাতিসঙ্ঘ
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তিকে ‘সঙ্ঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি এই চুক্তি চূড়ান্ত করার পেছনে পাকিস্তান, কাতার, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
‘অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া উচিত’: ফ্রান্স
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হরমুজ প্রণালী দ্রুত ও নিঃশর্তভাবে পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারে দেশটির কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টাকে ফ্রান্স সমর্থন দেবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগগুলোর সমাধান চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।
তিনি বলেন, চুক্তিটি অংশীদারদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল এবং তিনি এটি দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা দিতে প্রস্তুত : যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্য বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে মাইন অপসারণে সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে টোলমুক্ত ও অবাধ নৌচলাচল চালু করতে হবে।’
তিনি জানান, যুক্তরাজ্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
স্টারমার বলেন, ‘ইরানের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না। এটা যুক্তরাজ্যের দৃঢ় ও দীর্ঘদিনের অবস্থান।’
এই চুক্তিকে যুদ্ধ শেষ করার এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
স্টারমার বিশেষভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের অভিনন্দন জানান এবং এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় পূর্ণ সমর্থন’: কাতার
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে নেয়া সব উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
কাতার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতাসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতা স্মারক তৈরিতে পাকিস্তান মূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
‘উসকানি ও উত্তেজনা এড়িয়ে চলতে হবে’: তুরস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য বা পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সম্ভাব্য নাশকতার বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপরও জোর দেন।
তিনি ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান এবং কাতার ও সৌদি আরবের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।
হরমুজে নিরাপদ নৌচলাচলের আশা করছে জাপান
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর দ্রুত ও চূড়ান্ত সমাধান আসবে।
‘সংযম ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা জরুরি’: অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকে সংযম ও গঠনমূলক সংলাপ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান জরুরি।
‘জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে’: নিউজিল্যান্ড
প্রধানমন্ত্রী ক্রিস লুক্সন বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ স্বাভাবিক হবে, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল ও অর্থনীতি সচল থাকবে।
বিশ্ব অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে : জার্মানি
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জও এই কূটনৈতিক সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে আরো নিরাপদ করবে।
সূত্র: এএফপি, ডন



