ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেছেন, ইরানের জনগণ অপরাজেয়। যতদিন জনগণ দেশের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করবে, ততদিন কোনো শক্তিই ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না।
তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব হলো প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা। ১২ দিনের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ, রমজান যুদ্ধ এবং হরমুজ যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার আলোকে সম্ভাব্য দুর্বলতা দূর করা এবং শক্তির দিকগুলো আরো সুদৃঢ় করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকি প্রসঙ্গে বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি কয়েকটি কথা ও দাবি বারবার পুনরাবৃত্তি করছেন। আর তা হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অধিকার নেই, আমরা ইরানের নৌবাহিনীকে আঘাত করেছি, ইরানের বিমানবাহিনীকে আঘাত করেছি, তাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ এবং তারা বেতন দিতে পারেনি। এসব কথাবার্তা আরকি। এগুলো ছাড়া তার বলার মতো আর কোনো কথা নেই। আর আমরা এসব পুনরাবৃত্তিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব বক্তব্যের সময় এখন অতীত। তারা যদি সত্যিই যুদ্ধের মাঠে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে পারত এবং ভেনিজুয়েলার মতো পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের বিজয় উদযাপন করতে পারত, তাহলে এতদিনে হাজারবার তা করত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভালোভাবেই জানে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা, প্রতিরোধ এবং জনগণের দৃঢ় সংকল্পের সামনে তারা কোনো কিছুই করতে পারবে না।
ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান আরো বলেন, যতদিন জনগণ দেশের পাশে থাকবে, ততদিন কোনো শক্তিই ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না। ইরানের জনগণ সবসময় মাঠে তৎপর, আত্মত্যাগী ও পরোপকারী একটি জাতি। আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষাযুদ্ধের পরবর্তী সব বছরেও তারা এই বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করেছে। আজও তারা একই চেতনা ও দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করছে, যা প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার দাবি রাখে।
সূত্র : পার্সটুডে



