মধ্যপ্রাচ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে সরাসরি আলোচনায় বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে। থমকে যাওয়া সেই বৈঠক ফের চালু করতে আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে নিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কথা নিশ্চিত করেছে।
ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আবার সমঝোতার টেবিলে ফেরাতে ইসলামাবাদের তৈরি খসড়া স্মারকের ভিত্তিতে তারা কাজ করছেন। অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এর মূল লক্ষ্য। অন্যান্য ‘ভাইয়ের মতো ঘনিষ্ঠ’ দেশগুলোকে সাথে নিয়ে সংকট সমাধানের এই আন্তরিক চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এই মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি গতকাল মঙ্গলবার ইরান সফরে গিয়েছেন। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও থমকে যাওয়া মার্কিন-ইরান সংলাপ কিভাবে চালু করা যায় তা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনিরও সরাসরি ভূমিকা রাখছেন।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালী'তে অবাধে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত দেখা দেয়। ফলে নস্যাৎ হয়ে যায় সেই আলোচনা।
এরপরই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত ৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে দুই দেশ একে অপরের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে হামলা চালায়, যার জবাবে ইরানও জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাটি ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। সেই চরম উত্তেজনা কমানোই এখন পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য।
সূত্র: আনদোলু



